অর্থের অভাবে কেউ যাতে বিচার বঞ্চিত না হয়: প্রধানমন্ত্রী
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অর্থের অভাবে যেন কেউ বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়
বাংলাদেশে অর্থের অভাবে যাতে কেউ বিচার বঞ্চিত না হয় সরকার সে ব্যবস্থা করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অর্থের অভাবে কেউ বিচার পাবে না, তা হতে পারে না। অসহায়-গরীব-দুঃখী সকলেই যাতে ন্যায় বিচার পায় আমরা সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি।
আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বার বার জেল খেটেছেন এবং জেলের অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচার না পাওয়ার যে কী জ্বালা তা আমার চেয়ে বেশি আর কেউ বুঝতে পারবে না। কারণ, আমার বাবা তার জীবনের বড় একটা অংশ জেলে কাটিয়েছেন। শুধু মানুষের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে তিনি বছরের পর বছর জেলে বন্দী থেকেছেন। অথচ তার কোন অপরাধ ছিল না।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, যারা পেছনের দরজা দিয়ে বা বন্দুকের নল জোরে ক্ষমতায় আসে তারা জনগণের ভাষা বুঝতে পারে না। তাদের কাজ হচ্ছে, জনগণের স্বার্থে যারা কথা বলবে, তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালানো আর তাদের দাবিয়ে রাখা।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ও পরবর্তী সরকারগুলোর সমালোচনা প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই হত্যা শুধু বঙ্গবন্ধুকে নয়, এই হত্যার মধ্যে দিয়ে তারা একটি আদর্শকে হত্যা করতে চেয়েছে। খুনীদের পুরস্কার দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা বিচার করেনি। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জনগণের জন্য ন্যায় বিচারের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে জনগণের মৌলিক অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। জনগণ যাতে ন্যায়বিচার পায় সেজন্য সংসদে আইনগত সহায়তা আইন পাস করি।
তিনি আরও বলেন, কারাগারে এমন লোক আছে যার কোন আত্মীয়-স্বজন নেই। অনেকে আছে অসহায়, গরীব। তারা কিভাবে বিচার পাবে? তাদেরও তো বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। গরিব-অসহায় বলে তারা বিচার পাবে না, এটা মেনে নেয়া যায় না। তাদের বিচার পাওয়ার জন্য প্রত্যেক জেলায় স্থায়ী লিগ্যাল এইড অফিস করে দিয়েছি। এই অফিস গরীব-দুঃখী মানুষকে আইনি সহায়তা দেবে।
বিচারকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতি সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করবেন। ক্ষমতার ক্ষেত্রে আমি বড়, এটা ভাববেন না। ক্ষমতা কারো চেয়ে কারো কম নয়। একে অপরকে দোষারোপ করলে রাষ্ট্র সুষ্ঠুভাবে চলতে পারবে না। এককভাবে কেউ ক্ষমতার অধিকারী, এ কথা কেউ বলতে পারবেন না। সবাই মিলে সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে দারিদ্র্য মুক্ত করা। দেশের মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করা। গ্রামের মানুষের দারিদ্র্য দূর করা, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা।#
পার্সটুডে/শামস মন্ডল/গাজী আবদুর রশীদ/২৮