হাওরে বাঁধ নির্মাণে গাফিলতি ও দুর্নীতি প্রমাণ হলে শাস্তি: প্রধানমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i37086-হাওরে_বাঁধ_নির্মাণে_গাফিলতি_ও_দুর্নীতি_প্রমাণ_হলে_শাস্তি_প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওর অঞ্চলে বাঁধ নির্মাণে কারো গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হাওর অঞ্চলে মানুষের কষ্ট লাঘব করার জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এসব বাঁধ নির্মাণে কোনও ধরনের অবহেলা থাকলে তা ছাড় দেয়া হবে না।
(last modified 2026-06-27T09:59:16+00:00 )
এপ্রিল ৩০, ২০১৭ ০৮:৫৬ Asia/Dhaka
  • বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওর অঞ্চলে বাঁধ নির্মাণে কারো গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হাওর অঞ্চলে মানুষের কষ্ট লাঘব করার জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এসব বাঁধ নির্মাণে কোনও ধরনের অবহেলা থাকলে তা ছাড় দেয়া হবে না।

আজ (রোববার) বেলা ১১টার দিকে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হাওর এলাকা হাওর এলাকা পরিদর্শনের পর উপজেলার শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, আপনারা নিশ্চিত থাকবেন দুর্নীতি প্রমাণ হলে কেউই রেহাই পাবে না। শাস্তি পেতেই হবে। আগামী বছর কিভাবে বাঁধ নির্মাণ হবে, কখন করতে হবে এই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে যাতে করে সঠিক সময়ে বাঁধ নির্মাণ হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হবে।"   

শেখ হাসিনা বলেছেন, যত বড় দুর্যোগই আসুক, বর্তমান সরকার তা মোকাবেলার ক্ষমতা অর্জন করেছে। তাই দেশের কোনো মানুষই না খেয়ে কষ্ট পাবে না। 

তিনি বলেন, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, একটি এলাকার ফসল নষ্ট হলেও  খাদ্যে ঘাটতি হবে না। সাহস নিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। বর্তমান সরকার সব সময় এ অঞ্চলের মানুষের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। 

হাওরবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী থাকি আর না থাকি, বঙ্গবন্ধুর মেয়ে হিসেবে সবসময় আপনাদের পাশে থাকব।

ত্রাণ বিতরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাওরের ফসল যাতে আর নষ্ট হতে না পারে সেই ব্যবস্থা করতেই দ্রুত বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে কাজ শুরু করবে সরকার। দ্রুত নদী এবং ভরাট হয়ে যাওয়া খাল বিল খননের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য চলমান ওএমএস এর কেন্দ্র ইউনিয়ন পর্যায়ে নেয়ার জন্য খাদ্য মন্ত্রনালয়কে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা জানান, হাওরের বন্যাকবলিত এলাকায় বিতরণের জন্য তিন হাজার ৫২৪ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রতি পরিবারকে মাসে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

যেসব বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হাওর অঞ্চলে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের আপাতত কিস্তি আদায় স্থগিত করে সুদ মওকুফের আহ্বান জানান তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দুর্যোগের সময় যারা জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নিতে হয় তা জানা আছে। সুতরাং কেউ মজুদদারি করে দেশের মানুষকে কষ্ট দিয়ে পার পাবেন না। 

পরে প্রধানমন্ত্রী ২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৩৮ কেজি চাল ও ১০০০ টাকা করে ত্রাণ দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ত্রাণ বিতর শেষে প্রধানমন্ত্রী যাত্রাপুর গ্রামে গিয়ে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রমুখ।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩০