খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে তল্লাশি: ফখরুল বললেন ‘গণতন্ত্র ধ্বংসের অপচেষ্টা’
-
খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে পুলিশের অবস্থান
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তল্লাশির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোনো কারণ ছাড়াই খালেদা জিয়ার অফিসে পুলিশের তল্লাশির ফল আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য ধ্বংস বয়ে আনবে। এর ফলাফল ভালো হবে না। এটা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা।
বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তল্লাশি চলাকালে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দেশটা কি মগের মুল্লুক হয়ে গেল? সরকার যা ইচ্ছে তাই করছে পুলিশ দিয়ে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য পুলিশি রাষ্ট্র বানিয়েছে। খালেদা জিয়াকে হয়রানি করার জন্য তার অফিসে তল্লাশির জন্য পুলিশ ব্যবহার করা হয়েছে।
আজ (শনিবার) সকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান থানার পুলিশ খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় তল্লাশি করে সকাল পৌনে ১০টার দিকে তারা কার্যালয় ছেড়ে চলে যায়। আদালতের একটি সার্চ ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কোনোও কর্মকাণ্ড চলছে কি না কিংবা কোনোও ডকুমেন্ট রয়েছে কি না তা দেখতে এই তল্লাশি চালানো হয় বলে জানান গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক।
তল্লাশির খবর পেয়ে সকাল পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের কার্যালয়ে যান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল। তল্লাশি শেষে সকাল সাড়ে নয়টার কিছু পরে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি শেষে কার্যালয় ছাড়ার পর সকাল ১০টার দিকে ৮৬ নম্বর সড়কে দাঁড়িয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে এবং তাঁর মর্যাদাহানি করার জন্যই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। এটা উদ্দেশ্যমূলক এবং গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।’
তিনি বলেন, অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে সার্চ ওয়ারেন্ট করিয়ে কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তিনি নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে বলেন, হাওরসহ নানা ঘটনায় সরকার যে বিপর্যস্ত, সেদিক থেকে দৃষ্টি ফেরাতে এটি করানো হয়েছে। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ কিছুই পায়নি বলে তিনি জানান।
চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের অফিস সহকারী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কার্যালয়ের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য অবস্থান নেয়। এরপর পুলিশ নিরাপত্তারর্ক্ষীদের হুমকি-ধামকি দিয়ে কার্যালয়ের বাইরের ফটকের তালা ভেঙে সকাল পৌনে ৭টার দিকে কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় কার্যালয়ে থাকা সবার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়া হয়। ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) কক্ষ বাদে সব কক্ষেই তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় বাইরের ফটকসহ মোট চারটি তালা ভেঙে ফেলা হয়। ভাংচুর না করলেও তারা বেশ কয়েকটি কক্ষের জিনিসপত্র উলট-পালট করেছে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২০