আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী করবে: প্রধানমন্ত্রীর আশাবাদ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i41754-আওয়ামী_লীগ_ক্ষমতায়_থেকে_স্বাধীনতার_সুবর্ণ_জয়ন্তী_করবে_প্রধানমন্ত্রীর_আশাবাদ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
জুলাই ০৮, ২০১৭ ২১:০৪ Asia/Dhaka
  • বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা
    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন- গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভার সূচনা বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এসে অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। আরো যেসব মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগকে আরেক টার্ম ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন। কারণ বিএনপি ক্ষমতায় এলে লুটপাট করে, দেশের উন্নয়ন করে না।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬-২০০১ সালের বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ৫ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। দল ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় এসে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে।

 তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। আমরা একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীতে দশ বছর মেয়াদী একটি দীর্ঘ পরিকল্পনা সম্পন্ন করা হবে। পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে বড় ও মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য আরো এক মেয়াদ ক্ষমতায় আওয়ামী লীগের থাকা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের সরকার প্রধান বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসা মানেই দেশের উন্নয়ন, মানুষের উন্নয়ন। এর বাইরে যখনই যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে দেশে। কাজেই বাংলাদেশের জনগণকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে জনগণ কাকে চায়।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জনসংযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, নির্বাচন এলেই বিএনপি নানারকম টালবাহানা শুরু করে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৪ সালে তারা নির্বাচনে যায়নি, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু জনগণ যাতে ভোট দিতে না পারে সে জন্য মানুষ হত্যা করেছিল। তারা যে মানুষ হত্যা করেছে পুড়িয়ে, নিশ্চয়ই সেটা বাংলাদেশের জনগণ ভুলে যায়নি, ভুলে যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি আমলে সারা দেশে যত জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে তাদের সবার তালিকা তৈরি করার জন্য শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নেতাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘এগুলোর আর্কাইভ থাকা উচিত। সবার জানা দরকার। অতীত ভুলে যাওয়া উচিত না। অতীত ভুলে গেলে এগুনো যায় না।’

আওয়ামী লীগ সব সময় নির্বাচনে বিশ্বাসী মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘জনগণ ভোটের মালিক, জনগণ ভোট দেবে তার ইচ্ছা অনুযায়ী। ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’- এই স্লোগান কিন্তু প্রথম আমরাই শুরু করেছি। আমরা সব সময় নির্বাচনে বিশ্বাসী।’

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ করেন বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর বারবার আঘাত এসেছে। তারপরও দলটি টিকে আছে। আর দেশের সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নই আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য। আজকে দেশে মঙ্গা নাই, খাদ্যের অভাব নাই, ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি আমরা। দেশের উন্নয়নের কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৯