বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি; মধ্যাঞ্চলে বাড়ছে পানি
-
বন্যার পানিতে সয়লাব জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পদ্মা ও মেঘনা নদীর পানি বাড়ায় অবনতি হয়েছে দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির। প্লাবিত হয়েছে নওগাঁ, জামালপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলার নতুন নতুন এলাকা।
বন্ধ হয়ে গেছে বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ। বিভিন্ন স্থানে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। কোন কোন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
নওগাঁ : নওগাঁয় ছোট যমুনা নদীর পানি বেড়ে ভেঙে গেছে ইকরতারা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। তলিয়ে গেছে শহরের ৭টি ওয়ার্ডসহ নতুন আরো কয়েকটি এলাকা। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ভেঙে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
জামালপুর : জামালপুরে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি কিছুটা কমলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। তারাকান্দি-ভুঞাপুর সড়কে পানি ওঠায় বন্ধ রয়েছে আঞ্চলিক যোগাযোগ। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে যমুনার পানির তীব্র স্রোতে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৭৮ কিলোমিটার এলাকা। আতঙ্কে দেড় লাখের বেশি মানুষ।
টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে শতাধিক গ্রাম। ভেসে গেছে ফসলি জমি ও মাছের ঘের।
ফরিদপুর ও শরীয়তপুরে পদ্মা ও মেঘনা নদীর পানি বাড়ায় বন্যার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে ভাঙন। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম।
এদিকে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে শুরু করায় উন্নতি হয়েছে কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির। তবে পথঘাট-বাড়িঘর এখনো পানির নিচে। দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। অপরিবর্তিত রয়েছে গাইবান্ধা ও নীলফামারীর বন্যা পরিস্থিতি। বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বানভাসী মানুষ।
'এবারের বন্যাও আমরা সফলভাবে মোকাবেলা করব'
এদিকে, দেশে খাদ্যের কোনো ঘাটতি নেই, পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। বন্যার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খাদ্য আমদানি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
১৯৯৮ সালের মতো এবারের বন্যাও দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করা হবে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে বলছে ২০০ বছরে এমন বন্যা হয়নি। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সবার মধ্যে দেশপ্রেম। আটানব্বই সালে যখন চার মাস ধরে বন্যা হয়েছিল তখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন। সেই বন্যাটা সফলভাবে মোকাবেলা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের বন্যাও আমরা সফলভাবে মোকাবেলা করব।
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক পত্র-পত্রিকায় দেখছি সরকারের নাকি বন্যা মোকাবিলায় কোনো পদক্ষেপ নেই, এটা ডাহা মিথ্যা কথা। সরকার বন্যা মোকাবিলায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে রিপোর্ট করতে হবে। এতে আমরা আরও সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারব।
রোববার উত্তরাঞ্চল সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
অন্যদিকে, বন্যা পরিস্থিতি দেখতে আগামী রোববার দেশের উত্তরাঞ্চল সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ১৭ আগস্ট সকালে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর সদর ও বিরল উপজেলায় বন্যা দুর্গত এলাকায় যাবেন এবং ত্রাণ বিতরণ করবেন। দুপুরের পরে তিনি কুড়িগ্রাম যাবেন। সেখানে রাজারহাট উপজেলায় পাঙ্গা হাইস্কুল মাঠে ত্রাণ বিতরণ করবেন। ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় রওনা হবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/১৭