বাংলাদেশের সাথে ইরানের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক ছিল এবং থাকবে: সাইয়্যেদ মুসা হোসাইনী
-
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাইয়্যেদ মুসা হোসাইনীসহ অন্যান্য অতিথি
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সিলর জনাব সাইয়্যেদ মুসা হোসাইনী বলেছেন,জামিলা খাতুনকে দেখেই বোঝা যায় ইরানের সাথে বাংলাদেশের ভাষা ও জনগণের কীরকম গভীর সম্পর্ক ছিল। ৯৭ বছর বয়স্কা স্মৃতিমাণ মহীয়সী নারী মোসাম্মাৎ জামিলা খাতুনকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
ঢাকাস্থ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে জাতীয় আধ্যাত্মিক কবিতা পরিষদ ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব হোসাইনী আরও বলেন, ভাষা ও ঐতিহ্যিক এই সম্পর্ক যত না ছিল বহির্গত তারচেয়ে বহুগুণ বেশি ছিল অন্তর্গত। হাফিজ, সাদী, রুমী, ফরিদউদ্দিন আত্তার যে বাংলার জমিনেও কতটা নিবিড়ভাবে মিশে গিয়েছিল তা বোঝা যায় এই মহিয়সী নারীকে দেখে। ইরান ও বাংলাদেশের মানুষের মাঝে যে সাংস্কৃতিক মিল আমরা লক্ষ্য করছি তার প্রধান সেতু হচ্ছে ইসলাম ও এর আত্মিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি।
জনাব হোসাইনী আরও বলেন,বাংলাদেশের সাথে ইরানের যে ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যগত সম্পর্ক অতীতে ছিল সেই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও থাকবে এবং তা আরো বৃদ্ধি পাবে। সেন্টার ফর ন্যশনাল কালচার (সিএনসি)-এর নির্বাহী পরিচালক মাসিক ফুলকুড়ির সম্পাদক ও শিশু সাহিত্যিক জনাব মাহবুবুল হক বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় ফার্সি পড়েছি। ফার্সি শুনেছি। ওয়াজের মঞ্চে ফারসী বলতেন মাওলানা সাহেবেরা। শেখ সাদীর কথা আমরা শুনেছি। আমরা শেখ সাদীর নামের শেষে (র) লিখি। তাকে আমরা অলি হিসেবে সম্মান করি।
এহতেশাম আহমেদ পারওয়েজ বলেন‘‘আজকের এই মুরব্বি মাতার কাছ থেকে আমরা আমাদের জাতিসত্তা ও জাতীয় সংস্কৃতির সুমধুর অতীত সৌরভ পেলাম।
জাতীয় আধ্যাত্মিক কবিতা পরিষদ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার কবি মহিউদ্দিন আকবরের সঞ্চালনায় সাবেক সচিব ড কামালউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর জনাব ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক , লালকুঠি দরবার শরীফের পীর ও লালকুঠি সাহিত্য পরিষদ-এর সভাপতি জনাব আহসানুল হাদী, সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার (সিএনসি)-এ নির্বাহী পরিচালক, শিশু কিশোর মাসিক ফুলকূড়ির সম্পাদক শিশু সাহিত্যিক জনাব মাহবুবুল হক, পেট্রোবাংলার ডিজিএম মাওলানা বোরহান উদ্দিন, কালান্তর প্রকাশনীর স্বত্তাধীকারী কবি মনির উদ্দীন ইউসুফ-এর পুত্র জনাব সাঈদ আহমদ আনিস, লেখক গবেষক ডঃ হালিমদাদ খান এবং জনাব এহতেসাম আহমেদ পারওয়েজ প্রমূখ। সভায় নিবেদিত কবিতা পাঠ করেন কবি আতিক হেলাল, কবি আমিন আল আসাদ, কবি জাফর পাঠান, কবি ইবনে আবদুর রহমান ও শিশু আবৃত্তিশিল্পী আঞ্চুম ইসলাম। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নিউজলেটারের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ড জহিরউদ্দীন মাহমুদ, সাংবাদিক ফাহমিদা আহমেদ, রিয়েল পিকচার ইউনিট-এর চেয়ারম্যন লেখক গবেষক নজরুল ইসলাম মিশা ও অধ্যাপিকা রহিমা আক্তার প্রমূখ।
সভায় উক্ত মহীয়সী নারীকে জাতীয় আধ্যাত্মিক কবিতা পরিষদ-এর পক্ষ থেকে মানপত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট, সেন্টার ফর ন্যশনাল কালচার (সিএনসি)র পক্ষ থেকে সম্মাননা পত্র এবং রিয়েল পিকচার ইউনিট-এর পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এবং কবি আমিন আল আসাদ তাঁর কাব্যমানপ্রত্রটি সম্মাননা হিসেবে প্রদান করেন।
জামিলা খাতুন বার্ধক্যেও আজো অনর্গল আরবী, ফারসী, উর্দু হিন্দি, নাগরী ও বাংলা ভাষায় বক্তব্য দিতে সক্ষম। তিনি বিভিন্ন ফার্সি কবিতার লাইন আবৃত্তি করে শোনান, দোয়া মুনাজাত, আল্লাহর নিরানব্বই নাম সহ মুনাজাতের একটি দীর্ঘ কবিতা মুখস্থ পাঠ করে শোনান।
পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/২৩