এম কে আনোয়ার ছিলেন সৎ, যোগ্য ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদ: ফখরুল
-
এম কে আনোয়ারের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ারের তৃতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে সকাল ১০ টায় রাজধানীর কাটাবন জামে মসজিদে প্রথম জানাজা এবং দ্বিতীয় জানাজা বেলা ১২ টায় নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল (বুধবার) আসর নামাজের পর কুমিল্লার হোমনায় পারিবারিক করবস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
দ্বিতীয় জানাজার আগে দেয়া বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "এম কে আনোয়ার ছিলেন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আপসহীন সৈনিক। বর্তমান সরকারের কোনো নির্যাতন ও জুলুম এখন আর তাকে স্পর্শ করবে না।"
তিনি বলেন, "এম কে আনোয়ার ছিলেন সৎ, যোগ্য ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদ। বর্তমান সরকারের কোনো নির্যাতন ও জুলুম তাকে দমাতে পারেনি।"

ফখরুল আরও বলেন, "দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং দলের পক্ষ থেকেও গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাঁকে হারিয়ে তাঁর পরিবার যে শোকাহত হয়েছে, সেই শোক সহ্য করার শক্তি তাঁদের হোক। আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, তিনি যেন বেহেশতবাসী হোন।"
জানাজার পর ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে এমকে আনোয়ারকে চিরবিদায় জানান বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, সোমবার দিনগত রাত ১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর এলিফেন্ট রোডের নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ার ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

খালেদা জিয়ার শোক
সাবেক এ মন্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানার পর পৃথক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
এম কে আনোয়ারকে একজন সজ্জন, মিতবাক, নিয়মনিষ্ঠ, কথা ও কাজে অসাধারণ সামঞ্জস্য রক্ষাকারী হিসেবে বর্ণনা করে খালেদা জিয়া বলেন, “তার সততা ও নিষ্ঠা ছিল ঈর্ষণীয় উচ্চতায়। সেই কারণেই পেশাগত জীবনে সরকারি সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত থেকেও অমলিন ব্যক্তি-মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। রাজনৈতিক জীবনেও নিজ আদর্শে অটল থেকে সংগ্রাম ও জনগণের সেবা করে গেছেন।“
এক শোকবার্তায় বিএনপি চেয়ারপারসন আরও বলেন, দেশের বরেণ্য রাজনীতিবিদ এম কে আনোয়ার রাজরোষে পড়া সত্ত্বেও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেননি, তাই বারবার কারাবরণসহ নিপীড়ণ-নির্যাতন সহ্য করেও নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সাথে অগণতান্ত্রিক সরকারের অসদাচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে গেছেন।
এমকে আনোয়ারের পুরো নাম মোহাম্মদ খোরশেদ আনোয়ার। তিনি ১ জানুয়ারি ১৯৩৩ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসরগ্রহণের পর রাজনীতিতে জড়িয়ে তিনি পরবর্তী সময় ৫ বার জাতীয় সংসদ সদস্য ও দুবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৪