চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের পথে খালেদা জিয়া: বিএনপি'র শোডাউন
-
বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়া কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে রওয়ানা করে চট্রগ্রামে রাত্রিযাপন শেষে আজ দ্বিতীয় দিনের যাত্রা শুরু করেছেন।
খালেদা জিয়া দুপুর সোয়া ১২টায় সার্কিট হাউস বের হলেও সকাল ৯টা থেকেই সার্কিট হাউজ থেকে আমানত শাহ সেতু পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন হাতে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে রাখেন । খালেদা জিয়ার আগমনকে ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে পুরো চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে। সকাল থেকেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে বেগম জিয়াকে স্বাগত জানাতে দলের জড়ো হতে থাকে। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি উৎসুক জনতাও খালেদা জিয়াকে দেখতে রাস্তার দু’পাশে ভীড় করেন।
দিনের কর্মসূচী অনুযায়ী, খালেদা জিয়া আজ কক্সবাজার সার্কিট হাউজে রাত্রি যাপন করবেন। আগামীকাল সোমবার বেলা ১১টায় উখিয়ায় বালুখালী পানবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বালুখালী-২, হাকিমপাড়া ও ময়নার গুনা ক্যাম্প পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করবেন তিনি।
এদিকে, তার সফরসূচি সফল ও তদারকি করতে শুক্রবারই কক্সবাজারে এসেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খাঁন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম ও জাতীয় মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। এছাড়া, বেগম খালেদা জিয়ার সাথে রয়েছেন মির্জা ফখরুলসহ একডজন কেন্দ্রীয় নেতা। মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খাঁন কক্সবাজারে এসে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দদের সাথে দফায় দফায় মিটিংয়ে বসে সবকিছু তদারকি করছেন।
গতকাল শনিবার ঢাকা থেকে চট্রগ্রামে যাত্রাপথে কুমিল্লা, ফেনী ও মীরেরসরাইয়ে বেগম জিয়ার গাড়ির বহরে হামলা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এ জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে।
গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাদের হামলার ঘটনা পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
রোববার সকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমের আহত সাংবাদিকদের চট্টগ্রামের দুইটি হোটেলে দেখতে গিয়ে বলেন, হামলাকারীরা সরকারি দল আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ-যুব লীগের ক্যাডাররা । পত্র-পত্রিকায় তাদের পরিচয় উল্লখে করা হয়েছে।
গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওপর আক্রমনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা গণমাধ্যমের কর্মীরা সব সময় নিরপেক্ষ থেকে সবরকম ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন, আপনাদের কোনো দল নেই, আপনারা সত্যকে তুলে ধরতে চান। সেই ক্ষেত্রে যদি আপনারা সেই অধিকারটুকু হারিয়ে ফেলেন তাহলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা তো আমরা দেখতে পারছি না।’
ওদিকে হামলার পর পরই , বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার নেপথ্য নায়ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি এই কাজ করেছেন।
তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের পাল্টা আভিযোগ করে বলেছেন, মিডিয়া কাভারেজের জন্য ছাত্রদল-যুবদলই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে হামলা চালিয়েছে। আজ রোববার সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ফেনীতে খালেদা জিয়ার হামলা আওয়ামী লীগ করেনি, বিএনপি নিজেরাই নিজেদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
ওদিকে, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, প্রকাশ্য দিবালোকে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরে এরকম আক্রমণ গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।
এছাড়া, ২০ দলীয় জোটের শরীক খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের এক বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ও তার সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।#
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/২৯