ইউনেস্কোর স্বীকৃতি বিশাল গৌরবের: ৭ মার্চের ভাষণ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i48071-ইউনেস্কোর_স্বীকৃতি_বিশাল_গৌরবের_৭_মার্চের_ভাষণ_প্রসঙ্গে_শেখ_হাসিনা
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণটি ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর  মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
(last modified 2026-06-27T09:59:16+00:00 )
নভেম্বর ০১, ২০১৭ ১৩:১৩ Asia/Dhaka
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণটি ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর  মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের ৭৭টি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিলের সঙ্গে এবার বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকেও ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে ‘মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করে নিয়েছে ইউনেস্কো। সংস্থাটির মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা সোমবার প্যারিসে ইউনেস্কো কার্যালয়ে ওই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করার পর বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই বিবৃতি দেন বলে তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান।

এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন,  'ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি বাঙালি জাতি এবং বাংলা ভাষার জন্য এক বিশাল গৌরবের।'

ইউনিস্কো মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা

পাকিস্তানের ২৪ বছরের শাসন-শোষণের ইতিহাস তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তানিদের এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম রুখে দাঁড়ান। তাঁর নেতৃত্বে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের সংগ্রাম। বাঙালিদের ওপর নেমে আসে অত্যাচার এবং নির্যাতন। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ‘৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ’৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ের পথ ধরে বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম এক যৌক্তিক পরিণতির দিকে ধাবিত হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভার ডাক দেন। সেদিনের জনসমুদ্রে তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।’ বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণই ছিল প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা।

৭ মার্চ রেসক্রস ময়দানে ভাষণ দেন শেখ মুজিবুর রহমান

‘বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের পর থেকেই পূর্ব বাংলার নিয়ন্ত্রণভার বাংলার মানুষের হাতে চলে যায়। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পরিচালিত হতে থাকে দেশ। কিছু সেনানিবাস ছাড়া দেশের অন্য কোথাও পাকিস্তানি শাসনের কোনো নিদর্শন ছিল না। জাতির পিতার এই সম্মোহনী ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে বাঙালি জাতি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তাঁর অনন্য বাগ্মিতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার আলোকে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাঙালি জাতির আবেগ, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে একসূত্রে গ্রথিত করেন। বাঙালির বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণে দিকনির্দেশনাই ছিল সে সময়ের বজ্রকঠিন জাতীয় ঐক্যের মূলমন্ত্র যার আবেদন আজও অম্লান। প্রতিনিয়ত এ ভাষণ তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে এবং অনাদিকাল ধরে অনুপ্রাণিত করে যেতে থাকবে।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর সামরিক শাসকেরা এবং পরবর্তীকালে বিএনপি-জামাত জোট জাতির পিতার এই ভাষণকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। সরকারি গণমাধ্যমে নিষিদ্ধ ছিল এর প্রচার। কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃদয় থেকে কোনোদিনই মুছে যায়নি এই ভাষণ।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১