গুম-খুনে আমেরিকার অবস্থা আরো ভয়াবহ: সংসদে শেখ হাসিনা
-
জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “গুম, খুন নানাভাবেই হচ্ছে, যারা নিখোঁজ হচ্ছে তাদের অনেকে আবার ফেরতও আসছে। এটা কি শুধু বাংলাদেশে হচ্ছে? যুক্তরাজ্যে ২ লাখ ৪৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক গুম হয়েছে। আমেরিকার অবস্থা আরো ভয়াবহ।“
বাংলাদেশে গুম নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বক্তব্যের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “৫৪ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ ১৬ কোটি মানুষের দেশ। এইটুকু ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে এত মানুষের অবস্থান। তাদের সেবা ও আর্থ-সামাজিক উন্নতি আমরা করে যাচ্ছি। অথচ এই সব উন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যা কত, তাদের সব কিছু তো আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন। তারপরও সেই দেশে এত লোক গুম হয়, তার খোঁজ পাওয়া যায় না।“
সংসদের এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে বক্তব্য দিয়ে দাঁড়িয়ে রওশন বলেছিলেন, “মানুষকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করছে। এগুলো বানানো কথা না। খবরের কাগজে আছে। কীভাবে অনিরুদ্ধ নিখোঁজ হল। নিখোঁজ হয়ে কোথায় গেল, কে নিয়ে গেল? আমরা জানতে পারিনি।”
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বিরোধী দলীয় নেতা গুমের কথা বলেছেন। এই গুম তো বহুভাবেই হচ্ছে। অনেকে কিন্তু ফেরতও আসছে। যারা ফেরত আসে বা খুঁজে পাওয়া যায়, তা কিন্তু বড় করে নিউজ হয় না।”
কলাম লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহারের নাম উল্লেখ না করলেও তার ‘গুম’ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের একজন সনামধন্য আঁতেল গুম হয়ে গেলেন। পরে দেখা গেল- উনি গুম হননি। উনি নিজে নিজেই খুলনায় গেলেন। পরে তাকে খুঁজে পাওয়া গেল। অথচ এর দোষটা আমাদের। এ ধরনের আরও অনেক ঘটনা তো ঘটে যাচ্ছে। আমি তার নামধাম বলতে চাই না।“
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, “জনগণের প্রতি আমার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। যারা এই দলটির অপকর্ম সম্পর্কে জানেন, যাদের বিবেক আছে, তারা ভোট দেবে না। সুতরাং ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে তাদের (বিএনপি) কোনো লাভ হবে না। এ নিয়ে আলোচনা করেও কোনো লাভ নেই। জনগণ শান্তি এবং উন্নয়ন চায়। মানুষ এটা বুঝতে পেরেছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে উন্নতি হয় এবং উন্নতি হবে। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।“
প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, তারা আবারও ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে কিভাবে? জনগণ কি ভোট দিয়ে ওই আপদ টেনে তাদের জীবনকে আবার দুর্বিষহ করে তুলবে? বিএনপি যদি আবার ক্ষমতায় আসে, এদেশের জনগণের জীবন নরকে পরিণত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটি দল নির্বাচনে না এসে রাস্তায় রাস্তায় চিৎকার করে বেড়াচ্ছে। আমাদের সরকারকে নাকি টেনে নামাবে। এমন একজন মানুষের মুখ থেকে এই কথাটা আসল, তার নাম নিতে চাই না। তার চরিত্রটা কী? ছাত্রজীবনে করেছেন এক রাজনীতি, পরে নানা সময় নানা রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত এবং রাষ্ট্রপতি থেকে ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে মন্ত্রী হলেন। এর পর থেকে যখনই যে দল ক্ষমতায় সে মন্ত্রী থাকে। তাঁর একটা বড় গুণ যখনই যে সরকারে তখনই তিনি মন্ত্রী।’
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারে আছেন এবং আজকে দুপুরে মিয়ানমারের সরকারের সঙ্গে একটা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছি। তারা তাদের এই নাগরিকদের যাতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তারা স্বীকার করেছে তারা ফিরিয়ে নেবে। এমওইউ আমরা সই করেছি।“
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। রাতে প্রধানমন্ত্রীর সমাপনী বক্তব্যের মধ্যদিয়ে জাতীয় সংসদের ১৮তম অধিবেশন শেষ হয়।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৪