এরা আর কোনো দিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না: শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী দুর্নীতিবাজ, আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যাকারী এবং যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দানকারী বিএনপিকে কখনো বাংলার মানুষ ভোট দেবে না, এরা আর কোনো দিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জনগণই ক্ষমতায় আসতে দেবে না তাদের। স্বাধীনতার সুফল নিয়ে আর কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। আমরা দেব না।’
রোববার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং ৪৭তম বিজয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির সমালোচনা করেছে শেখ হাসিনা বলেন, ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি থেকে আগে কোকো-১, ২ নামে জাহাজ বেরিয়েছে। এখন বের হচ্ছে শপিং মল, ফ্ল্যাট, হাজার হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের ব্যাংকের থেকে ৯৫০ কোটি টাকা যারা লুটে নিয়ে গেছে, তারা আবার স্বপ্ন দেখে ক্ষমতায় যাওয়ার, রাজনীতি করার।
সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশিত সৌদি আরবের ধনকুবেরদের কাছে ব্যবসায়ে লগ্নির জন্য জিয়া পরিবারের টাকা প্রদান-সংক্রান্ত দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের কোর্ট এবং আমেরিকার ফেডারেল কোর্টই বলেছে খালেদা জিয়ার ছেলেরা মানি লন্ডারিং করেছেন। এটা তাদের কাছেই ধরা পড়েছে, যে টাকা আমরা উদ্ধার করেছি। কাজেই এরা কোন মুখে জনগণের কাছে গিয়ে দাঁড়াবে। কোন মুখে জনগণের কাছে ভোট চাইবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাঙালি জাতি এখন বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলছে, আগামী দিনেও মাথা উঁচু করে চলবে, সেটাই হবে আমাদের আজকের দিনের প্রতিজ্ঞা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার সুফল আজকে বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাচ্ছে। এই সুফল নিয়ে বাংলার মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কখনো কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। ছিনিমিনি খেলতে আমরা দেব না।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান একাই নয়, খালেদা জিয়া, এরশাদ—সবাই খুনি ও পাকিস্তানি বাহিনীর দোসরদের খোশামোদি-তোষামোদি করেছেন। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে তো আরও একধাপ ওপরে উঠলেন—এদের হাতে তুলে দিলেন লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা, এদেরকে বানালেন মন্ত্রী। আমরা জনগণের কাছে ওয়াদা করেছিলাম, ক্ষমতায় গিয়ে এই অপরাধীদের বিচার করব। আমরা সেই বিচার করেছি।’
আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এছাড়া, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৭