গয়েশ্বর গ্রেফতার: ফখরুল বললেন, সরকার পথের কাঁটা দূর করতে চাচ্ছে
-
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আটক করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে গুলশান ১ পুলিশ প্লাজার সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।
'সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গয়েশ্বর আটক'
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে আটকদের ছিনতাইয়ের ঘটনার নির্দেশদাতা হিসেবে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আটক করা হয়েছে। নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে বুধবার আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
'সরকারের অশুভ ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবাহী'
এদিকে, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে সাদা পোশাকধারীদের কর্তৃক গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও জননেতা বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আজ রাতে সরকারের সাদা পোশাকধারী লোকজন গুলশান-১ পুলিশ প্লাজার সামনে থেকে গ্রেফতারের ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে বিরোধীদলশূন্য রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করতে চায় বর্তমান সরকার। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে ধ্বংস করে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্যই সরকার একদিকে যেমন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সপ্তাহের অধিকাংশ দিন আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করছে একইভাবে বিএনপি’র জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ দেশব্যাপী প্রতিনিয়ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে পথের কাঁটা দূর করতে চাচ্ছে। সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা ও আটককে তাদের প্রাত্যহিক কর্মে পরিণত করেছে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গ্রেফতার সরকারের অশুভ ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবাহী। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ছাড়াও দেশের সকল মানুষই এখন নিজেদের স্বাধীন দেশটাকে কারাগার ভেবে প্রতিদিনই উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছে। সরকার কারাগারকেই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারণ করে দিয়েছে। শাসকগোষ্ঠীর অহঙ্কার আর বেপরোয়া দমন-পীড়নে দেশের মানুষ আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সরকারের এই ভয়াবহ দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এই স্বৈরাচারী সরকারের জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”
মির্জা ফখরুল তার বিবৃতিতে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানান এবং অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান।
'ভয়ংকর গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ'
এর আগে রাত পৌনে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বৈঠক শেষে বের হওয়ার পর রাত পৌনে ১০টার দিকে গুলশান এলাকা থেকেই তাঁকে আটক করা হয়।
দলের পক্ষে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘একজন রাজনীতিবিদকে এভাবে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সভ্য রাষ্ট্রে নজিরবিহীন ঘটনা। এটা একটি সরকারের ভয়ংকর গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা চাই অবিলম্বে গয়েশ্বর চন্দ্রকে তার পরিবার ও দলের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হোক।’
তিনি বলেন, ‘আগামী ৮ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে সরকার এক অশুভ পরিকল্পনায় এগোচ্ছে। গোটা জাতি জানে এক ভয়ংকর মিথ্যাচার ও সাজানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলায় চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। সারাদেশের মানুষ এ নিয়ে উদ্বিগ্ন।‘
তবে সরকারের এ ধরনের অপকর্ম, অপচিন্তা এবং পরিকল্পনা দেশের জনগণ ব্যর্থ করে দেবে বলেও মনে করেন রিজভী।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩১