৪ দিনে ৩ শতাধিক গ্রেফতার, মানুষের ক্ষোভ ধিকিধিকি জ্বলছে: রিজভী
-
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় সামনে রেখে গত চার দিনে সারাদেশে তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ (শুক্রবার) বেলা ১১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার ওপর বিচারের নামে অবিচারের যে কালো ছায়া বিস্তার লাভ করানো হয়েছে, তাতে দেশবাসী ক্ষুব্ধ। প্রহসনের বিচার নিয়ে মানুষের ক্ষোভ ভস্মাচ্ছাদিত বহ্নির মতো ধিকিধিকি জ্বলছে। এই মিথ্যা মামলার বিচার নিয়ে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত হলে জনরোষ চরম প্রতিবাদের শক্তিতে রাজপথে ছড়িয়ে পড়বে।’
রিজভী জানান, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম টিপুকে শাহবাগ এলাকা থেকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে র্যাব। এছাড়া গ্রেফতার করা হয়েছে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লবসহ অঙ্গ দলের বহু নেতাকর্মীকে।’
বিএনপির এই নেতার অভিযোগ, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন সরকারের পার্টনার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জাল নথির ওপর ভিত্তি করে ভুয়া ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির মাধ্যমে জুলুম করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের কাছে প্রমাণ হয়ে গেছে, সরকার পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন কৌশলে আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। কারণ, ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতার মগডালে বসে থাকার মজাটা পাচ্ছে, তাই তারা নাছোড়বান্দার মতো ক্ষমতা ধরে রাখতে আগ্রহী। আবারো ৫ জানুয়ারির মত নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।’
রিজভী জানান, আগামীকাল (শনিবার) রাজধানীর খিলক্ষেতে হোটেল লা মেরিডিয়ানে সকাল ১০টা থেকে নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ইতোমধ্যে নির্বাহী কমিটির সভার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, তবে আমরা এমন এক অন্ধকারাচ্ছন্ন দুঃসময়ের মধ্যে বাস করছি যে, যখন স্বাভাবিক রাজনৈতিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড করতে যেয়েও বিএনপি নেতৃবৃন্দরা সরকারি নিষ্পেষণের শিকার হচ্ছেন। বিপদ, শঙ্কা, আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্যে তাদেরকে যাপন করতে হচ্ছে দিনরাত্রি। নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যরা নয়াপল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পরিচয় পত্র সংগ্রহ করতে এসে অনেকেই গ্রেফতার হচ্ছেন। বাসা থেকেও নেতৃবৃন্দরা গ্রেফতার হচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করা যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুতুল-খেলা। যখন ইচ্ছা হচ্ছে বাসা থেকে, রাস্তা থেকে, হাটবাজার থেকে, দলীয় কার্যালয় থেকে তাদের তুলে নিয়ে গিয়ে প্রথমে অস্বীকার করার পর দরকষাকষি শুরু হয়, বলা হয় বেশি টাকা দিলে হালকা মামলা দেয়া হবে, আর কম টাকা দিলে কঠিন মামলা দেয়া হবে, আর যদি অর্থ দিতে অক্ষম হয় তাহলে শুরু হয় অমানবিক শারীরিক নির্যাতন। এটিই হচ্ছে আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র ও শাসনের নমূনা। গুণ্ডামির এই নবসংস্করণ ভোটারবিহীন সরকারের দুঃশাসন টিকিয়ে রাখার ইঙ্গিতবহ। গণতন্ত্রের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার সহিংস আগ্রাসী পদক্ষেপ।’#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২