অজানা ভয়ে সরকার বেসামাল- বিএনপি : মতপ্রকাশের অধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে- এইচআরডব্লিউ
-
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী
বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদার জিয়ার রায়কে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মহড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী প্রশ্ন রেখেছেন, 'সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ হলে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দিয়ে পুলিশ পাহারায় কারা বেপরোয়া মোটরসাইকেল মহড়া দিচ্ছে? সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ হলে র্যাব-পুলিশের মাঝখানে হুন্ডা মহড়া হয় কিভাবে? তারা কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নাকি আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসি? সরকার দলীয়রা বুক চিটিয়ে মোটর সাইকেল বহর নিয়ে যাচ্ছে। তারা সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করেছে। এটা কি উসকানি নয়?’
তিনি বলেন, সরকার অজানা ভয়ে বেসামাল হয়ে গেছে। এ জন্য সবদিকে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
রিজভী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনতাকে ভয় পায়। দুঃশাসনের দৌরাত্ম ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। তারা জনতার আওয়াজ শুনলেই আঁতকে ওঠে। সরকারি বাহিনীর উন্মত্ত আচরণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসা, হোটেল এমনকি গলি থেকে টেনেহেঁচড়ে বের করে গ্রেপ্তার করছে। এভাবে চলতে থাকলে পুলিশ রাস্তাঘাটে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন নয়াপল্টন কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকা রিজভী।
গ্রেপ্তার-আটক বন্ধ হওয়া উচিত- এইচআরডব্লিউ
এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতাকর্মী ও অন্যদের খেয়ালখুশি মতো গ্রেপ্তার ও আটক বন্ধ করা উচিত বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের। এক্ষেত্রে বিক্ষোভে পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলতে প্রকাশ্যে নির্দেশ দেয়া উচিত বাংলাদেশ সরকারের।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তার ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতি মামলার রায় হচ্ছে। এ রায়কে সামনে রেখে শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আটক রাাখা হয়েছে।
বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করছে। তারা বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অধিকারও লঙ্ঘন করছেন।
ব্রাড এডামস আরো বলেন, যখন সব দলের নেতার উচিত তাদের সমর্থকদের সহিংসতায় জড়িত হওয়ার বিষয়ে সতর্কতা করা উচিত, তখন এটা সরকারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীকে সব সময় সংযত থাকার পরামর্শ দেবে সরকার।
৯ দিনে গ্রেপ্তার ৩ হাজার
বাংলাদেশ পুলিশের হিসাব অনুযায়ী- গতকাল রাজধানীতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৩৩ জন। আর ঢাকার বাইরে ৩৭ জেলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৯৭৯ জন। সব মিলে গতকাল এক দিনে সারা দেশ গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১২ শ’ ছাড়িয়ে গেছে। এই ধরপাকড় শুরুর পর থেকে গত ৯ দিনে বিএনপির তিন হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলো। এদিকে, দেশব্যাপী গণগ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র। গতকাল তারা এক বিবৃতিতে এই নিন্দার কথা জানায়।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৮