খালেদা জিয়াকে কারাগারে এখনো ডিভিশন দেয়া হয় নি: মওদুদের অভিযোগ
-
কারা ফটকে বিএনপির পাঁচ আইনজীবী
দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে এখনো ডিভিশন (প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা) পান নি বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
আজ (শনিবার) বিকেল ৩ টায় বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার জন্য জেলগেটে গিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ জানান, ‘আইন অনুসারে ১৮ ক্যাটাগরির কারাবন্দি ডিভিশন পাবেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় একজন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ডিভিশন দেওয়া হয় নি। তাকে যেখানে রাখা হয়েছে তা একটি নির্জন পরিত্যক্ত কারাগার। এখানে ফাঁসির আসামিদের যেভাবে রাখা হয় তাকে সেভাবে রাখা হয়েছে।
বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ‘আমরা কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি। কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিভিশন দেয়ার জন্য আদালতের আদেশ ও জেলা প্রশাসকের কোনো নির্দেশনা তারা এখনো পাননি। ফলে তাকে ডিভিশন দেয়া সম্ভব হয়নি। আমরা সরকারের এই আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তারা যে আদালতের আদেশ ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার কথা বলছেন এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
আজ দুপুরের পর পাঁচ আইনজীবী কারা ফটকে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। প্রায় এক ঘণ্টা বসে থাকার পর বিকেলে ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে তাঁরা কারাগারে প্রবেশের অনুমতি পান।
পাঁচ আইনজীবী হচ্ছেন- ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট আবদুর রেজাক খান।
আইনজীবীরা কারা ফটকে গিয়ে সামনের চেকপোস্টে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার আবেদনপত্রটি দেন। পরে তা কারা কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয় বলে জানান সেখানে দায়িত্বরত লালবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খন্দকার হেলাল উদ্দিন।
এর আগে গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিলের জন্য ওকালতনামায় সই করেছেন। এখন রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেলে রোববারের মধ্যেই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল ফাইল করা হবে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার প্রধান আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান।
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পালিত
এদিকে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজার রায়ের প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারাদেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনকালে রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ।
গণগ্রেপ্তার অব্যাহত
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় এবং পরবর্তী বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারা দেশে পুলিশের গণগ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকালও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি-জামায়াতের কয়েক শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ৪ দিনে প্রায় চার সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সন্ধ্যায় বিএনপির জরুরি বৈঠক
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। আজ (শনিবার) সন্ধ্যা ৭ টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক হবে। বিএনপির মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, ভাইস চেয়ারম্যান এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাগণ এক বৈঠকে বসবেন।
বিএনপির কর্মসূচির প্রতি এলডিপি'র সমর্থন
ওদিকে, ২০-দলীয় জোটের শরীক এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ডেকে বেগম জিয়ার কারাদণ্ডের প্রতিবাদে বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। এ সময় এলডিপি কর্নেল অলি বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি অভিযোগ বলেন, খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার বিষয়টি সরকারের পূর্ব পরিকল্পিত। বিএনপি নেত্রীকে কারাগারে পাঠানোর সব বন্দোবস্ত আগে থেকেই ঠিক করা ছিল।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/১০