ছাত্রদল নেতা মিলনকে রিমান্ডে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে: ফখরুলের অভিযোগ
-
বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম
ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও তেজজাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন মিলনকে রিমান্ডে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, সোমবার ছাত্রদলের নেতা জাকির হোসেন মিলনকে নির্যাতন নিপীড়ন করে জেল খানায় পাঠিয়েছে। পরে বলেছে সে জেলখানায় মারা গেছে। এ হত্যার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এ ছেলেটি তার জীবন দিয়েছে শুধুমাত্র গণতন্ত্রের রাজনীতি করার জন্য। শুধু একা মিলন নয়, এভাবে গত কয়েক বছরে আমাদের অনেক মিলন চলে গেছে।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'বাংলাদেশ হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট' নামক একটি সংগঠন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মুক্তির দাবিতে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এদের দয়া নেই, মায়া নেই। এরা নৃশংসতম বর্বরতম শাসকগোষ্ঠিতে তারা পরিণত হয়েছে। এদের কাছে মনুষ্যত্ব, জীবন–প্রাণের কোনো মূল্য নেই। আপনারা দেখেছেন, সেদিন ছাত্রনেতা রাজ বাঁচার জন্য আমাকে আঁকড়ে ধরেছিল। আমি সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। আমি ছেলেটাকে রক্ষা করতে পারিনি। এটা আমার ব্যর্থতা। আজকে এই ক্ষোভ, ব্যথা, যন্ত্রণাকে শক্তিতে পরিণত করুন।’
তিনি বলেন, ‘এই যে কথায় কথায় আমাদের ভাইদের হত্যা করছে, ছেলেদেরকে হত্যা করছে, এদের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়ান। জনগণকে বলেন উঠে দাঁড়াতে, রাজপথে নামতে। এটাই একমাত্র পথ। বিকল্প কোনো পথ নেই।’
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে আইন নাই, আদালত নাই, বিচার বিভাগ নাই। কোথায় যাবেন আপনারা। আমাদের পথ একটাই, তা হলো রাজপথ। সেই রাজপথের মধ্যে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সব সমস্যার সমাধান করব বলে আমি বিশ্বাস করি। এটা আলোচনা সভা না হয়ে প্রতিবাদ সভা হলে খুশি হতাম। এখন প্রতিবাদ করারই সময়। আলোচনা করার সময় বোধ হয় শেষ হয়ে গেছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে ছলচাতুরি করে আটকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ তারা ভয় পাচ্ছেন, খালেদা জিয়া যদি বের হয়ে যান তাহলে তাদের মসনদ জনগণের জোয়ারে ভেসে চলে যাবে।
একটি পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে লেখা হয়েছে আমরা নাকি ৫টি সমঝোতার বিষয়ে আলাপ করতে কারাগারে গিয়েছি। এটা তারা কোথায় পেলেন তা জানি না।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে যে মামলায় নিম্ন আদালত সাজা দিয়েছেন, মামলাটা দিয়েছিল ১/১১ অবৈধ সরকার। বাংলাদেশ থেকে রাজনীতি দূর করে দেয়ার জন্য, বিরাজনীতি করার জন্য সব রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধেই মামলা দিয়েছিল। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চারটি মামলা ও আজকের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা দিয়েছিল। যারা গণতন্ত্রকে নিয়মমতো চলতে দিতে চায় না, তারা এই কাজগুলো করে। বাংলাদেশে পাকিস্তান আমল থেকে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে অনেকবার। রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন, এমন ব্যক্তিরা এসে ক্ষমতা দখল করেছেন এবং রাজনীতিকে নির্বাসিত করার চেষ্টা করেছেন।
খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা বিএনপি চেয়ারপারসনকে ছলচাতুরী করে আটকে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কেন? ভয়ে। এত ভয় পান যে বেগম খালেদা জিয়া যদি আজকে বের হন আপনাদের মসনদ জনগণের স্রোতে ভেসে যাবে। এই কারণেই আপনারা তাকে আটকে রেখেছেন।’
আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক সাবেক মন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়ুয়া, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী প্রমুখ।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৩