শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে বিক্ষোভের মুুখে পড়লেন মিয়ানমার মন্ত্রী
মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ এবং পুনর্বাসনবিষয়ক মন্ত্রী উইন মিয়াট আয়ে আজ কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করতে গিয়ে সেখানে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। তবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বাধা দিয়ে সরিয়ে দেয়।
রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভের কথা জানিয়ে রোহিঙ্গা নেতা জমির উদ্দিন রেডিও তেহরানকে বলেন, বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করতে গেলে প্রথমে পুলিশ বাধা দেয় লাঠিচার্জ করে এবং দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পালটা ধাওয়া হয়। পরে র্যাব এসে পরস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। পরে আশ্রয় শিবিরে কয়েকজন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সাথেও কথা বলেন মিয়ানমারের মন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে জনাব জমির উদ্দিন জানান, রোহিঙ্গাদের 'বাঙালি' হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবার কথা বলেন মিয়ানমারের মন্ত্রী। এতে শরণার্থীরা বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানায়, তারা বাঙালি নয়, রোহিঙ্গা পরিচয়ে মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। তারা তাদের অন্য দাবিগুলো তুলে ধরেন।
এসময় মিয়ানমারকে সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ দিয়েছেন মন্ত্রী উইন মিয়াট আয়ে। তবে, মিয়ানমারের মন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের কোনো মন্ত্রী বা এমপিকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি।
গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে দেশত্যাগে বাধ্য করার পর এটিই হচ্ছে মিয়ানমারের উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তার প্রথম বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ নামের একটি চুক্তি করা হয়। চুক্তিতে প্রত্যাবাসন শুরুর দুই বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন করা হবে বলে উভয়পক্ষ সম্মত হয়।
পরবর্তী সময়ে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পায়।
প্রাথমিকভাবে চুক্তির দুই মাসের মধ্যে ওই প্রক্রিয়াটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা শুরু হয়নি।
এদিকে বাংলাদেশ সরকার দ্বিতীয় ধাপে অতি শিগগিরই নাম-ঠিকানা সম্বলিত ১০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করবে বলে জানা গেছে। এর আগে এক হাজার ৬৭৩টি রোহিঙ্গা পরিবারের ৮ হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছিল। মূলত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এসব রোহিঙ্গাদের তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করছে।
ওদিকে, সীমান্তের ওপার থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, গত বছর ১০ রোহিঙ্গা মুসলমানকে হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে সাত সেনা সদস্যকে কারাদণ্ড দিয়েছে মিয়ানমার। মিয়ানমার সেনাবাহিনী বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব সেনাকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার মিয়ানমার সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও জড়িত থাকায়’ সেনাদের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর এবারই প্রথম সেনাবাহিনী হত্যাকাণ্ডে সেনাদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলো। এর আগে, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলো বারবার অভিযোগ করে আসছে, মিয়ানমারের সেনারা সরাসরি রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া ও তাদের হত্যায় জড়িত। তবে মিয়ানমার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। গত বছরের শেষ দিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ১০ রোহিঙ্গা হত্যায় সেনাদের জড়িত থাকার বিষয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১১