৭০ পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাহারসহ ১৩ দফা দাবি জানাল বিএনপি
-
বিএনপির ১৩ দফা দাবিনামা হস্তান্তর করছেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলম
বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৭০ কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার, প্রশাসনে রদবদলসহ ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল আজ (বৃহস্পতিবার) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবের দপ্তরে কাছে ওইসব দাবি পৌঁছে দেন।
পরে আলাল বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য পুলিশের দলবাজ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারি কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব না দেওয়ার জন্য বলেছি। পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারের মতো পদধারী ৭০ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি। যারা সমতল মাঠকে অসমতল করার কাজে ব্যস্ত, তাদের নাম, পদবী, কর্মস্থলসহ সব তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দিয়েছি।
তিনি বলেন, সিইসি আজ নিরপেক্ষ থাকার জন্য পুলিশকে আহ্বান জানিয়েছেন। আহ্বান জানানো মানে অনুরোধ করা। তিনি তো নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। সরকারের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ইসির কাছে দালিলিক কাগজপত্র উপস্থাপন করেছি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা যে কাজগুলো করতে পারে না, সে কাজগুলো অনবরত করা হচ্ছে। তার কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরেছি এবং প্রতিকার চেয়েছি।
আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যেসব নির্দেশ দিলেন সিইসি
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আরো বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এসব কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না হয়, এজন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা আমাদের চোখে পড়েছে তার মধ্যে কয়েকটি হলো- রাষ্ট্রপতি, আমাদের সবার শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি; তার পুত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। বঙ্গভবনে এলাকার লোকজন নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে এবং সেখানে তাদের রাষ্ট্রীয় খরচে আদর-আপ্যায়ন করা হয়েছে, যেটা প্রভাব বিস্তারের একটা অন্যতম উদাহরণ হিসেবে আমরা মনে করি।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব এবং চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারদের ডেকে গত ১৬ নভেম্বর বৈঠক করেছেন। পরবর্তীতে ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিট্রন পুলিশের কমিশনার, তার এলাকার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ডেকে কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব ঘটনা নির্বাচন আইনের লঙ্ঘন হয়েছে।
আলাল বলেন, এনটিএমসি এবং বিটিআরসি বিতর্কিত দলকানা কর্মকর্তা কর্মচারীরা আছেন। তারা কিছুদিন আগে থেকেই কার্যক্রম শুরু করেছেন। তারেক রহমানের স্কাইপে কথপোকথন বন্ধ করেছেন। গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের আশেপাশে ইন্টারনেট কার্যক্রম বন্ধ কেরেছেন। যেটাও আচরণবিধির লঙ্ঘন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার স্বাক্ষরিত ওই ১৩ দফা দাবির সারসংক্ষেপের মধ্যে রয়েছে- মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমাদানের জন্য বিএনপি অফিসের সামনে বিশাল গণজমায়েতে পুলিশি হামলা ও গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নির্বিকার ভূমিকা, এক থানা অথবা নির্বাচনী এলাকায় কর্মরত কর্মকর্তাদের অন্য থানা বা নির্বাচনী এলাকায় ভোট গ্রহন কর্মকর্তা হিসাবে পদায়ন, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তথাকথিত জরিপ প্রতিবেদন সমতল নির্বাচনী মাঠ তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা, বঙ্গভবনে সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী প্রেসিডেন্ট পুত্রের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সভা এবং আপ্যায়ন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ও জন নিরাপত্তা বিভাগের সচিবের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের সকল রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক) ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক, এনটিএমসি ও বিটিআরসির বিতর্কিত কর্তকর্তাদের সরিয়ে নিরপেক্ষ কর্মকর্তা পদায়ন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের জন্য সকল দল ও প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য জনপ্রশাসনের দলবাজ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারি কর্মকর্তাদের অবিলম্বে প্রত্যাহার, আসন্ন নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ, সুবিধা সম্পন্ন সমতল নির্বাচনী মাঠ তৈরির স্বার্থে থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ না দেয়া, পুলিশ বিভাগের রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারি কর্মকর্তাদের অবিলম্বে প্রত্যাহার, তফসিল ঘোষণার পরও নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে ডকুমেন্টারি মুভি ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় বিবিধ বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ, সিটি করপোরেশন ও সরকারি মালিকানাধীন ইলেক্ট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড এবং ডিজিটাল বিল বোর্ডে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও এমপিদের ছবি সংবলিত কথিত উন্নয়ন প্রচারণা বন্ধ এবং গণহারে আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ না দেয়ার দাবি জানানো হয়।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২২
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন