হাইকোর্টের রায়ে সরকারের আশা-ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে: মির্জা ফখরুল
-
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম
দুই বছরের বেশি সাজায় দণ্ডিতরা আপিল চলাকালেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলে বাংলাদেশ হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “নির্বাচনকে ব্যাহত করার জন্য, বিএনপিকে প্রতিহত করার জন্য, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে প্রতিহত করবার জন্য, দেশের মানুষের অধিকারকে খর্ব করার জন্য এই আদেশ দেয়া হয়েছে।”
নিম্ন আদালতে দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লা আমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভুঁইয়া ও আব্দুল ওহাব ও ব্যারিস্টার একেএম ফখরুল ইসলাম নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য হাইকোর্টে আপিল চলমান থাকা অবস্থায় তাদের দণ্ড বা সাজা স্থগিত করার আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন খারিজ করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার যে আদেশ দিয়েছে, তাতেই খালেদা জিয়ার ভোটের পথ আটকে গেছে। নির্বাচনে অংশ নিতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্তির পরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিলে ওই দণ্ড বাতিল বা স্থগিত হয়।
ওই আদেশের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা মনে করি, এই রায়, এই আদেশে সরকারের আশা-ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে।”
তিনি বলেন, “হাইকোর্টের ওই আদেশ জনগণের মধ্যে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ঠিক নির্বাচনের পূর্বে দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে আবারও এক রায় দেয়া হল যে, তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। এটা কোনো মতেই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এ রায় জনগণ ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।”
তিনি বলেন, “ঐক্যফ্রন্ট ও নির্বাচন প্রতিহত করতেই এই রায় দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, নির্বাচনের আগেই চেয়ারপারসন মুক্তি পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।”
‘খালেদা জিয়ার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত’
এদিকে, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, “আদালতের দুটি রায় আছে। এই দুই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতই সিদ্ধান্ত নেবেন খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কি না। এখন পর্যন্ত আমার কাছে যতটুকু তথ্য আছে সেটা হচ্ছে সাজা স্থগিত রাখার জন্য একটা দরখাস্ত করতে হয়। দরখাস্ত করার পর আদালত যদি মনে করেন সাজা স্থগিত থাকবে যত দিন পর্যন্ত আপিল শুনানি না হবে। তাহলে একজন নির্বাচন করতে পারবেন। যেহেতু সাজা স্থগিত রাখার দরখাস্ত দেয়া হয় নাই সেহেতু আদালত আদৌ সাজা স্থগিত করবেন কি করবেন না সেটা এখনো জানা যায়নি।”
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আদালত রায় না দেবেন ততক্ষণ পর্যন্ত খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।’
আজ (মঙ্গলবার) আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের দণ্ড নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৭
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন