রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ও বিশ্লেষকের অভিমত
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i68019-রোহিঙ্গা_প্রত্যাবাসন_পররাষ্ট্রমন্ত্রীর_বক্তব্য_ও_বিশ্লেষকের_অভিমত
বাংলাদেশ সরকার মানবাধিকার রক্ষায় সব সময় সচেষ্ট কিন্তু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হলে উগ্রপন্থার সৃষ্টি হতে পারে। এমন আশঙ্কা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯ ১৭:৪৩ Asia/Dhaka

বাংলাদেশ সরকার মানবাধিকার রক্ষায় সব সময় সচেষ্ট কিন্তু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হলে উগ্রপন্থার সৃষ্টি হতে পারে। এমন আশঙ্কা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন।

আজ (রোববার) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ ও মানবাধিকার শীর্ষক সেমিনার উদ্বোধনের পর, সাংবাদিকদের কাছে এ আশঙ্কার কথা জানান তিনি।

সংকট নিরসনে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য সেফজোন তৈরি করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে সেফজোন তৈরি করতে হবে। আমরা এটা নিয়ে নতুন করে কাজ করছি। সেফজোনে ভারত, চীনসহ আশিয়ান দেশের সদস্যরা সহযোগিতা দিতে পারে। কারণ, এদের প্রতি মিয়ানমারের আস্থা আছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেফজোনের বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন। পরে যেসব অ্যারেঞ্জমেন্ট হয়েছে, সেখানে এটি ছিল না। তাই আমরা এই প্রস্তাবটি আবার দিচ্ছি এবং নতুনভাবে দিচ্ছি।

কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না: আমেনা মহসিন

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আমেনা মহসিন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিভিন্ন মহল বিভিন্ন কথা বলছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। তবে চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। তা না হলে পুরো বোঝা বাংলাদেশে থেকে যাবে। আর এ কাজে আন্তর্জাতিক মহলকে সঙ্গে নিতে হবে; বিশেষ করে চীনকে। দেশটি তাদের বিনিয়োগের স্বার্থে মিয়ানমারকে চাপ দিতে চাইবে না। কিন্তু তাদের পাশে না পেলে খুব একটা সুবিধা হবে না বলেই মনে করেন তিনি।

অধ্যাপক ড. আমেনা মহসিন

সম্প্রতি ভারত সফরে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কাছেও রাখাইন প্রদেশে সেফ হেভেন তৈরি করে, সেখানে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এরআগে, গত বছরের ১ জুলাই জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের সঙ্গে বৈঠকে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য সেফজোন তৈরি করতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সহিংসতার মুখে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা যা এখনো অব্যাহত আছে।#

পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/১০

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন