রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার বিষয়ে জাতিসংঘের জেআরপির প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i68181-রোহিঙ্গাদের_মানবিক_সহায়তার_বিষয়ে_জাতিসংঘের_জেআরপির_প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা চালিয়ে যেতে ২০১৯ সালের জন্য জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। গত শুক্রবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থা এবং সহযোগী এনজিওগুলো এ খাতে ৯২০ মিলিয়ন ডলার সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯ ১৩:১৫ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা চালিয়ে যেতে ২০১৯ সালের জন্য জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। গত শুক্রবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থা এবং সহযোগী এনজিওগুলো এ খাতে ৯২০ মিলিয়ন ডলার সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।

তবে বাংলাদেশ সরকারের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে যে, এ যৌথ এ কর্মপরিকল্পনায় ভাসানচরকে অন্তর্ভুক্ত করেনি জাতিসংঘ। যদিও বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নতুন আশ্রয়স্থল হিসেবে ভাসানচরকে জেআরপিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছিল।

শুক্রবারের জেনেভা বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রিত ৯০০,০০০ রোহিঙ্গা এবং আশ্রয়দানকারী দেশের ৩৩০,০০০ অতি দরিদ্র মানুষদের জন্য সাহায্যের আবেদন করা হলেও এ সাহায্যের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে শিশুরা। রোহিঙ্গা শিবিরে শিশুদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত আবাসনের পাশাপাশি তাদের দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সাধারণভাবে, জাতিসঙ্ঘের এ জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি)-এর আওতায় বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের সাহায্যের ক্ষেত্রে তিনটি কৌশলগত বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হবে। এগুলো হচ্ছে– তাদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান, জীবন বাঁচানোর মতো সাহায্য প্রদান এবং সামাজিক সুসম্পর্ক বিধান।

এ প্রসঙ্গে, রোহিঙ্গা এডুকেশন ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম-এর সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন রেডিও তেহরানকে বলেন, জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান এর আওতায় শিশুদের যে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে তাতে রোহিঙ্গারা খুশি। তারা আগে থেকেই ভাষানচর আশ্রয় শিবিরে যাবার ব্যাপারে আগে থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল। এখন জাতিসংঘ সেখানে সাহায্য দেবে, না এটা জানার পর তারা আরো বেশী আপত্তি জানাবে- এটাই স্বাভাবিক।  

রোহিঙ্গা শিশুরা

জেআরপি ২০১৯-এ ভাসানচর প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ভাসানচরকে ১০ লাখ রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে ভিড়ের চাপ কমাতে ভাসানচরে তাদের স্থানান্তরের জন্য সরকার প্রস্তাবও দিয়েছে।

তবে, জাতিসংঘ ভাসানচরের নিরাপত্তা, উপযুক্ততা এবং কমনীয়তার নিশ্চয়তা চেয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সেবার সহজলভ্যতা, পরিবেশ ও আর্থসামাজিক স্থিতিশীলতা বিবেচনায় সুরক্ষারও নিশ্চয়তা চেয়েছে জাতিসংঘ। এ পরিকল্পনা নিয়ে এগোনোর ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে তাদের উদ্বেগ হ্রাস করা এবং স্থানান্তর প্রক্রিয়া সহজীকরণ জরুরি বলে বলছে জাতিসংঘ।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব মতামত উল্লেখ থাকলেও জেআরপি ২০১৯-এ ভাসানচর নিয়ে কোনো পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের ২০১৯ সালের ত্রাণ ও অন্যান্য চাহিদা পূরণে জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান তৈরি করেছে জাতিসংঘ। জেআরপি তৈরি হয় সংশ্লিষ্ট সবার মতের ভিত্তিতে। যেহেতু বাংলাদেশের নেতৃত্বে জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় কাজ করছে, তাই বাংলাদেশের মতামত এখানে গুরুত্বপূর্ণ। জেআরপি খসড়া থাকাবস্থায় বাংলাদেশ এ দলিলে ভাসানচরকে অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছে, যাতে রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তর করা হলে আগে থেকে সব সুযোগ-সুবিধা তৈরি থাকে। তবে জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্টরা রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে নেই। এজন্য জেআরপিতে ভাসানচরের উল্লেখে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ সুরক্ষা চেয়েছে সংস্থাটি।

জানা গেছে, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর প্রশ্নে জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকারের মতভিন্নতা রয়েছে। রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, জেনেশুনে ভাসানচরে যেতে চাইলেই কেবল তাদের স্থানান্তর করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত ইয়াং হি লি রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য পাঠানোর আগে কারিগরি ও মানবিক বিষয়াদি নিয়ে পরিপূর্ণ সমীক্ষার জন্য জাতিসংঘকে অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কাঠামোগত বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছার আগে কোনো রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে না পাঠানোর তাগিদ দিয়েছেন। এদিকে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ শরণার্থীর স্বীকৃতি বা সুরক্ষা দিতে নারাজ বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে সম্প্রতি ঢাকা সফর করে যাওয়া কানাডার বিশেষ দূত বব রে  সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলাদেশ এমন ধারণা তারা দিতে চায় না যে, রোহিঙ্গাদের এখানে স্থায়ীভাবে বা দীর্ঘমেয়াদে থাকতে দেয়া হবে। বাংলাদেশ চায়, মিয়ানমারই এগুলো করুক।

তিনি এটাও বলেছেন, সার্বিকভাবে এ যাবত বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য যা করেছে তা চমকপ্রদ। এখন একে অন্তর্বর্তী পরিকল্পনায় রূপ দেয়াই চ্যালেঞ্জ। একে কেবল একটি মানবিক সংকট হিসেবে দেখলে চলবে না। আমাদের ভাবতে হবে, এর পরবর্তী ধাপ কী? নিশ্চিতভাবে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, জীবিকা—এগুলোর ব্যাপারেও আমাদের ভাবতে হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের উদ্বেগ আছে। আমি এর সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে বলেছি, এগুলো প্রত্যাবাসনের আগে অন্তর্বর্তী পরিকল্পনা। যখন লোকজন এ দেশে আছে, তখন তাদের শিক্ষার সুযোগ পাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৭

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন