বাংলাদেশ বিশ্বে সম্মানজনক অবস্থানে এসেছে: চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i68345-বাংলাদেশ_বিশ্বে_সম্মানজনক_অবস্থানে_এসেছে_চট্টগ্রামে_প্রধানমন্ত্রী
প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বাংলাদেশের প্রথম সড়ক সুড়ঙ্গপথ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’র খনন কাজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে বলে মনে করেন তিনি।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৯ ০৯:৫৮ Asia/Dhaka
  • ট্যানেলের নকশা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    ট্যানেলের নকশা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বাংলাদেশের প্রথম সড়ক সুড়ঙ্গপথ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’র খনন কাজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে বলে মনে করেন তিনি।

আজ (রোববার) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের বোরিং কার্যক্রম এবং লালখানবাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং প্রকল্পের ফলক উন্মোচন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বে সম্মানজনক অবস্থানে এসেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম টানেল হচ্ছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে। ২০১০ সালে এ টানেল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলাম। টানেল নির্মাণে মহিউদ্দিন চৌধুরীর যুক্তি ছিল সেতু করা হলে নদীতে পলি জমবে। আজ তাকে স্মরণ করছি। মুক্তিযুদ্ধ, আন্দোলন-সংগ্রামে তার যথেষ্ট অবদান রয়েছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “চীন বাংলাদেশের জন্য এ প্রকল্পে শতভাগ ঋণ সহায়তা দিয়েছে। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর এ টানেলের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট। এ টানেল আনোয়ারা উপজেলাকে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে যুক্ত করবে। ১০ কিলোমিটার সড়ক করা গেলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার চার লেন সড়কের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে। চট্টগ্রামে প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আওয়ামী লীগ সরকার করে দিয়েছে। আরেকটি কাজ করে দিচ্ছি লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে। এটি পোর্ট সিটি। ব্যবসা-বাণিজ্য সব কিছু এ জায়গা থেকে হয়। চট্টগ্রামে বিশাল আকারে অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। শহরে যানজট কমানোর জন্য বাইপাস করে দিচ্ছি। টানেল নির্মাণ হলে চট্টগ্রামে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়ন হবে। কক্সবাজার পর্যটন শহর। যাতে পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠে সে লক্ষ্যে আলাদা কর্তৃপক্ষ করে দিয়েছি।”

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণ বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্বব্যাংকের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে বললাম, মামলায় বিশ্বব্যাংক কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। বিশ্বব্যাংক যা যা বলেছে সব ভুয়া, বানোয়াট। কত যে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে তা আপনারা বুঝবেন না। আজ পদ্মা সেতু দৃশ্যমান। আমি নাম চাই না। জীবনে কোনো কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই। নিঃস্ব-রিক্ত হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে এসেছি। আমার বাবা সারাটা জীবন এ দেশের জন্য কষ্ট করেছেন। আমার মাও কষ্ট করেছেন। তারা এদেশের গরিব-দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছেন। এ দেশের কোনো মানুষ গৃহহারা থাকবে না। প্রতিটি মানুষ শিক্ষা পাবে। এটা বাবা চাইতেন।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “দেশে গত ৪৩ বছরে সবচেয়ে সফল কূটনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। বীর চট্টগ্রাম এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রত্যক্ষ করলাম, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেলের বোরিং কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠান। এ স্বপ্নের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এ টানেলের নামকরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামবাসীর বারে বারে অনুরোধের প্রেক্ষিতে এ নামকরণ।”

সেতুমন্ত্রী বলেন, “মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়কের চিন্তাভাবনা চলছে। কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের কাজ শেষ করার পেছনে শেখ হাসিনার অবদান রয়েছে। সড়কটি না হলে রোহিঙ্গাদের নিয়ে দুর্দশায় পড়তাম। কক্সবাজার দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে। আগামী ঈদের আগে তিনটি চার লেনের সেতু দৃশ্যমান হবে। ভবিষ্যতে চট্টগ্রামে মেট্রোরেল করার চিন্তাভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।”

এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নয় হাজার আটশত আশি কোটি চল্লিশ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ সহায়তা তিন হাজার নয়শত সাতষট্টি কোটি একুশ লক্ষ টাকা এবং চীন সরকারের অর্থ সহায়তা পাঁচ হাজার নয়শত তের কোটি ঊনিশ লক্ষ টাকা। দু’টি টিউব সম্বলিত মূল টানেলটির দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার এবং টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং ৭২৭ মিটার ওভার ব্রিজ।

প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৩২ ভাগ এবং ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম শহরকে বাইপাস করে সরাসরি কক্সবাজারের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে চট্টগ্রাম শহরের যানজট কমে যাতায়াতের জন্য ব্যয়িত সময় অনেকাংশে কমে আসবে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৪

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন