গাজার শিশুদের ঘুড়ি; যে দুঃস্বপ্নে ইসরায়েলিদের ঘুম হারাম
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i162498-গাজার_শিশুদের_ঘুড়ি_যে_দুঃস্বপ্নে_ইসরায়েলিদের_ঘুম_হারাম
পার্সটুডে- আল-আকসা তুফান অভিযানের পর গাজার আশপাশের ইসরায়েলি বসতিগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির হিসাব-নিকাশ বদলে গেছে। এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, গাজার শিশুদের ওড়ানো ঘুড়ি আকাশে দেখা গেলেও অবৈধ ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
(last modified 2026-08-25T10:36:30+00:00 )
আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৫:৪৫ Asia/Dhaka
  • ঘুড়ি ওড়াচ্ছে এক ফিলিস্তিনি শিশু
    ঘুড়ি ওড়াচ্ছে এক ফিলিস্তিনি শিশু

পার্সটুডে- আল-আকসা তুফান অভিযানের পর গাজার আশপাশের ইসরায়েলি বসতিগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির হিসাব-নিকাশ বদলে গেছে। এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, গাজার শিশুদের ওড়ানো ঘুড়ি আকাশে দেখা গেলেও অবৈধ ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইরনার বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, আল-আকসা তুফান অভিযান (৭ অক্টোবর ২০২৩) পরিচালনার আগে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে তাদের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সক্ষমতার শ্রেষ্ঠত্বের কথা প্রচার করে আসছিল। কিন্তু এই অভিযান সেই ধারণায় বড় ধরনের ধাক্কা দেয় এবং প্রমাণ করে যে, সামরিক ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব থাকলেও তা আকস্মিক হামলা কিংবা নিরাপত্তা বিপর্যয় ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না।

ওই অভিযানের প্রায় তিন বছর পার হওয়ার পর গাজার শিশুদের ঘুড়ি দেখে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, আল-আকসা তুফানের ছায়া এখনো ইসরায়েলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশের ওপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে গাজা উপত্যকাকে ঘিরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মূল্যায়নে হামাস এখনো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গাজার শিশুদের ওড়ানো ঘুড়ি দেখতে পাওয়ার পর কয়েকটি ইসরায়েলি বসতিতে সতর্কসংকেত বেজে ওঠার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘুড়িগুলো যেন সেই নিরাপত্তাগত ও মানসিক আঘাতের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে, যার প্রভাব থেকে ইসরায়েল এখনো পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি।

ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ৭-এর সঙ্গে আলাপকালে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রন শ্লেইফার গাজা উপত্যকা থেকে ওড়ানো ঘুড়ি নিয়ে ইসরায়েলি রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়াকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা বলেন। তিনি এ ঘটনাকে হামাসের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের একটি অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তার মতে, হামাস সহজ ও স্বল্পব্যয়ী উপায় ব্যবহার করেও গাজার আশপাশের ইসরায়েলি বসতিগুলোর মানুষের মানসিকতায় প্রভাব ফেলতে এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

শ্লেইফার দাবি করেন, এসব পদক্ষেপ ধাপে ধাপে এগিয়ে চলা একটি কৌশলের অংশ হতে পারে। অর্থাৎ ছোট ও কম খরচের পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও সংবেদনশীলতা যাচাই করা হয়, এরপর ধীরে ধীরে পরবর্তী পদক্ষেপের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়।

এদিকে, গাজার আশপাশের এলাকার বসতিস্থাপনকারীদের ঘুড়ি নিয়ে উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বলেন, ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর ওই এলাকার বাসিন্দাদের উদ্বেগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদাসীন থাকা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ঘুড়ি যেন ৭ অক্টোবরের ঘটনার স্মৃতি নতুন করে জাগিয়ে তুলতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

এসব বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, আল-আকসা তুফান ইসরায়েলিদের জন্য শুধু একটি সামরিক ঘটনা ছিল না; বরং এটি তাদের মনে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক প্রভাব ফেলেছে। এমনকি শিশুদের ওড়ানো একটি সাধারণ ঘুড়িও সেই ঘটনার স্মৃতি নতুন করে জাগিয়ে তুলতে পারে।#

পার্সটুডে/এসএ/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন