ট্রাম্পের প্রকল্প ব্যর্থ হতে বাধ্য; আগের মতো প্রভাব নেই যুক্তরাষ্ট্রের: টেলিগ্রাফ
-
ট্রাম্পের প্রকল্প ব্যর্থ হতে বাধ্য
পার্সটুডে-ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ জোর দিয়ে বলেছে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর যুক্তরাষ্ট্রের প্রকল্প ব্যর্থ হতে বাধ্য।
কারণ, এক বা দুই দশক আগের মতো বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার মতো প্রভাব এখন যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
টেলিগ্রাফের সাংবাদিক অ্যামব্রোস ইভান্স-প্রিচার্ড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, শত্রুদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবরোধ কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের আগের মতো প্রভাব-প্রতিপত্তি নেই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চীন, রাশিয়া, ভারত, ইউরোপ এবং বিশ্বের বড় আর্থিক কেন্দ্রগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরদিকে, মার্কিন চাপ মোকাবিলায় চীন আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ কিংবা মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে চীন দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার জবাব দিতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং ইউরোপের মজুদ কমে যাওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে। ফলে ট্রাম্প অত্যন্ত জটিল এক সমীকরণের মুখোমুখি। বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়েছে, ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি কার্যকর হয় নি।
এদিকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নতুন প্রকল্প অনেকটাই ২০১৮ সালের একই পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের ওপর শত শত কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে আত্মসমর্পণ এবং দুর্বল অবস্থান থেকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অভিযান তেহরানকে কোনো ছাড় দিতে বাধ্য করে নি; বরং এর বিপরীত ফল হয়েছে এবং পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নতুন প্রকল্পের অন্যতম প্রধান দুর্বলতা হলো রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা। কিন্তু এসব দেশ নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের সব নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য মনে করে না।#
পার্সটুডে/এনএম/২৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন