চকবাজারে আগুনে নিহত ও আহত শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ দেয়ার সুপারিশ
-
নিহতদের কফিন
বাংলাদেশের রাজধানীর ঢাকার চকবাজারে আগুনের ঘটনায় হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার সুপারিশ করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক নিহত হয়েছে ২৫ জন আর আহত হয়েছে ১০ জন।
আজ (রোববার) বিকেলে হতাহত শ্রমিকদের তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের উপ-মহাপরিদর্শক জাকির হোসেন। বুধবারের অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬৭ জন প্রাণ হারায়।
অগ্নিকাণ্ডের পর, ২২ ফেব্রুয়ারি জাকির হোসেনকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। তদন্ত শেষে শনিবার প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। প্রতিবেদনে, নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে একলাখ এবং আহতদের ৫০ হাজার করে টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ তালিকার বাইরে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলেও জানান জাকির হোসেন।

দগ্ধ ১১ জনকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকা হস্তান্তর
এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চকবাজারে দগ্ধ ১১ জনকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বার্ন ইউনিটে ৯ জন ও অন্য ইউনিটে দুই জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢামেকের বার্ন ইউনিটে দগ্ধ রোগীদের দেখতে আসেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
আজ (রোববার) দুপুরে সোয়া ১টার দিকে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের কনফারেন্স রুমে রোগী ও তাদের স্বজনদের হাতে এই টাকা তুলে দেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন। অনুদান হিসেবে প্রত্যেক রোগীর পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়।
বার্ন ইউনিটের রোগী হেলাল নিজে টাকা গ্রহণ করেন। এছাড়া, রোগী আনোয়ারের স্ত্রী হাজেরা বেগম, মাহমুদুলের স্ত্রী পারভিন আক্তার, রেজাউলের মা হোসনে আরা বেগম, সোহাগের মা বেদানা বেগম, জাকিরের স্ত্রী খদেজা বেগম, মোজাফ্ফরের স্ত্রী রেনু বেগম, সেলিমের মা তাসলিমা বেগম ও সালাউদ্দীনের মা সুবর্ণা আক্তার অনুদানের টাকা গ্রহণ করেন। এছাড়া অন্য ইউনিটে ভর্তি রবিউলের বাবা আব্দুল মজিদ ও কাওসারের মা রাশেদা বেগম অনুদানের টাকা গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহতদের দেখতে গিয়ে আহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়ার ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬৭ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত ৪৮ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনও বাকি রয়েছে ১৯টি মরদেহ। যা ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া হস্তান্তর সম্ভব নয়। শনিবার সবশেষ হস্তান্তর করা হয় জাফর আহমেদ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মরদেহ। বাকি ১৯টি মরদেহ শনাক্তের জন্য ৩৬ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২৪
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন