বিমান ছিনতাইচেষ্টা রোধ: পাইলট ও ক্রুদের প্রশংসা করলেন শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i68470-বিমান_ছিনতাইচেষ্টা_রোধ_পাইলট_ও_ক্রুদের_প্রশংসা_করলেন_শেখ_হাসিনা
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ছিনতাই চেষ্টা সাহসিকতা এবং অসাধারণ প্রজ্ঞার সাথে মোকাবিলা করায় বিমানের পাইলট ও ক্রুদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯ ১৮:৪০ Asia/Dhaka
  • পাইলট ও ক্রুদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    পাইলট ও ক্রুদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ছিনতাই চেষ্টা সাহসিকতা এবং অসাধারণ প্রজ্ঞার সাথে মোকাবিলা করায় বিমানের পাইলট ও ক্রুদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ (বৃহস্পতিবার) পাইলট ক্যাপ্টেন গোলাম শফী, ফার্স্ট অফিসার মুনতাসির মাহবুব এবং পাঁচ কেবিন ক্রু প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ক্রুদের ‘হিরো’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবন ও সম্পত্তির কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই এমন ঘটনা মোকাবিলার দৃষ্টান্ত বিশ্বে বিরল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জীবন এবং উড়োজাহাজের কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই এ ঘটনা মোকাবিলা আপনাদের বড় সফলতা।’

তিনি বলেন, বিশ্বে এমন সফলভাবে কোনো উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা মোকাবিলার দৃষ্টান্ত নেই। এ ধরনের ঘটনায় মানুষ হত্যা ও সম্পত্তির ক্ষতি হয়ে থাকে এবং সংকট সমাধানে দীর্ঘ সময় লাগে।

বিমানের এই ফ্লাইটটিই ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দৃঢ় সাহস, বুদ্ধিমত্তা এবং প্রজ্ঞা দেখিয়েছেন। আপনাদের বুদ্ধিমত্তা, তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা এবং সাহস ছিল অসাধারণ। এসব ভয়ংকর মুহূর্তে অনেকেই তাদের ধৈর্য ধরে রাখতে পারেন না।’ ভয়ংকর মুহূর্তের সময় তিনি সর্বদা ঘটনার অনুসন্ধান করতে বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিমানের যাত্রী, পাইলট এবং ক্রুদের নিরাপদে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেন তিনি। কেননা সম্পত্তির চেয়ে তিনি মানুষের জীবন নিয়ে সর্বদা বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন।

এসময় বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন গোলাম শফী প্রধানমন্ত্রীকে ওইদিনের পুরো ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, দুর্বৃত্তকে কথা বলায় ব্যস্ত রেখে কীভাবে তারা চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান অবতরণ এবং যাত্রীদের জীবন ও উড়োজাহাজ রক্ষা করেন। এমন ভয়ংকর মুহূর্তে তারা কীভাবে যাত্রীদের শান্ত রাখেন তাও জানান পাইলট।

গোলাম শফী জানান, ভয়ানক ওই মুহূর্তে তারা অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণ প্রয়োগ করেছিলেন। দুর্বৃত্ত ককপিটে প্রবেশ করলে সে উড়োজাহাজকে অন্য দেশে নিয়ে যেত, ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হতো।

নিহত ছিনতাইকারী পলাশ

এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, সচিব মো. মহিবুল হক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম মোসাদ্দেক আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। যে পাঁচ কেবিন ক্রু উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন- শফিকা নাসিম, হোসনে আরা, শরিফা বেগম, শাহেদুজ্জামান ও আব্দুস শুকুর মোজাহিদ।

উল্লেখ্য, রোববার পলাশ আহমেদ নামে এক দুর্বৃত্ত খেলা পিস্তল নিয়ে বিমানের (বোয়িং ৭৩৭-৮০০) একটি ফ্লাইট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাইগামী বিমানটিতে ১৪৮ জন যাত্রী ছিল। পরে পাইলট বিমানটি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে জরুরিভাবে অবতরণ করেন। যাত্রীরা নেমে গেলে সেনা বহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ছিনতাইকারী পলাশ আহমেদ নিহত হয়।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৮

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন