সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ হত্যার আসামি সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i68550-সৌদি_দূতাবাস_কর্মকর্তা_খালাফ_হত্যার_আসামি_সাইফুলের_মৃত্যুদণ্ড_কার্যকর
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ মোহাম্মদ এস আল আলী হত্যা মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম মামুনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
মার্চ ০৩, ২০১৯ ২০:২৮ Asia/Dhaka
  • সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফের কফিন
    সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফের কফিন

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ মোহাম্মদ এস আল আলী হত্যা মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম মামুনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ জানান, সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ মোহাম্মদ এস আল আলীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম মামুনের সাজা রোববার রাত ১০টা ১ মিনিটে কার্যকর করা হয়েছে। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার দণ্ড কার্যকর করা হয়।

চিকিৎসকরা সাইফুলের মৃত্যু নিশ্চিতের পর আনুসাঙ্গিক কাজ শেষে তার স্বজনদের কাছে লাশ হাস্তান্তর করা হয়। এর আগে দুপুরে সাইফুলের মা, ভাই ও বোনসহ ১০ জন স্বজন তার সঙ্গে দেখা করেন।

২০১২ সালের ৫ মার্চ রাত ১টার দিকে রাজধানীর গুলশানে কূটনৈতিক এলাকার ১২০ নম্বর সড়কের ১৯/বি নম্বর বাসার সামনে গুলিবিদ্ধ হন খালাফ আল আলী (৪৫)। ৬ মার্চ ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ওই বছরের ৪ জুন দক্ষিণখান থানার গাওয়াইর এলাকা থেকে চার ছিনতাইকারী সাইফুল, লালু, আল আমিন ও খোকনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশের ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই প্রতিরোধ টিম।

খালাফ হত্যার আসামি সাইফুল ও আল আমিন আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্বীকার করেন যে, ৫ মার্চ দিনগত রাতে ছিনতাই করতে বাধা দেওয়ায় তারা চারজনসহ পলাতক সহযোগী সেলিম খালাফ আল আলীকে এ অস্ত্র দিয়ে গুলি করে হত্যা করেন। তবে আল আমিন তার জবানবন্দিতে সাইফুল গুলি করেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সাইফুলসহ বাকি চারজন ওই রাতে খালাফকে ঘিরে ধরেন এবং তার কাছে ডলার চান। ডলার না দেওয়ায় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে সাইফুল তার হাতে থাকা রিভলবার দিয়ে খালাফকে গুলি করে পালিয়ে যান। এরপর সাইফুল, আল আমিন, লালু ও খোকনকে খালাফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখায় (শ্যো’ন অ্যারেস্ট) পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত চার আসামি ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি এবং ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষে  ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর খালাফ আল আলীকে হত্যার দায়ে ৫ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।

পরবর্তী সময়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম মামুনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় প্রদান করেন। এ ছাড়া আদালত অপর তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান এবং একজনকে খালাস দেন।

গত বছরের ১ নভেম্বর মামুনের মৃত্যুদণ্ডাদেশসহ হাইকোর্টের পুরো রায় বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। দণ্ড ঘোষণার পর থেকে সাইফুল কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বন্দি ছিলেন। সাইফুল ইসলাম মামুন বাগেরহাটের স্মরণখোলা থানার মধ্য খোন্তাকাটা এলাকার মৃত আব্দুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে। #

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন