থেমে গেছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া, ভাষানচরেও যেতে চায় না রোহিঙ্গারা
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া এগারো লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত যাবার বিষয়টি অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছে, আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ও বিভিন্ন বন্ধু দেশ নানামুখী চেষ্টা চালালেও সেসব এখন পর্যন্ত সফল হয়নি।
মিয়ানমারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত নানা অজুহাতে থেমে আছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। ফলে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাপের কারণে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে স্থানীয় জনগেষ্ঠী। রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় ৪ লাখ মানুষ। এদের সামাল দিতে গিয়ে ইতোমধ্যে এখানকার হাজার হাজার একর বনভূমি ধ্বংস হয়ে গেছে; পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছে এবং নানা অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা এডুকেশন ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম-এর সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন রেডিও তেহরানকে বলেন, দু’দেশের মধ্যে সমঝোতা হলেও বর্তমানে কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত যাবার কোনো ইচ্ছা নেই। কারণ সেখানে তাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। এখনো সেখানে মিয়ানমার সেনা ও আরাকান সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে; এখনো যেসব রোহিঙ্গা রাখাইনে রয়েছে, তাদেরকেও আশ্রয় শিবিরে থাকতে হচ্ছে। তারা নিজ গ্রামে নিজের বাড়িঘরে ফিরে নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা চায়।
জমির উদ্দিন আরো জানান, বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা অনুয়ায়ী বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় দ্বীপ ভাষানচরেও রোহিঙ্গাদের পুর্বাসনে রাজী নয় তারা। তাদের অনেকে নিজের উদ্যাগে সেখানে গিয়ে দেখে এসেছে তাদের জন্য বাড়িঘর তৈরি করা হলেও জনবসতিহীন এ দ্বীপে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি রয়েছে। সেখানে বসবাস করা তাদের জন্য নিরাপদ মনে করে না রোহিঙ্গারা।
এদিকে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নিজেদের স্বার্থে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক লে. কর্নেল ফোরকান আহমদে। তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, 'শুধু করব করছি হবে হচ্ছে এরকম করলে হবে না। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের ফেরত পাঠানোর জন্যে চেষ্টা চালাতে হবে।'
বিগত দু’দশক ধরে দফায় দফায় মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতিগত নিষ্ঠুর দমন নিপীড়নের মুখে রোহিঙ্গারা সাগরে ভেসে, নাফ নদী পাড়ি দিয়ে, আবার কখনো মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে পাহাড় ডিঙ্গিয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে দমন-পীড়নের তীব্রতা বাড়লে প্রায় সাত লক্ষ রোহিঙ্গা এসে আশ্রয় নেয় সীমান্ত জেলা কক্সবাজারে। এদের সংখ্যা নতুন-পুরাতন মিলে বর্তমানে এগারো লাখে ছাড়িয়েছে।
সরকারের নানামুখী উদ্যোগ এবং মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লেও এ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি কার্যকর হচ্ছে না। #
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১