দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়ে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এ জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন পূরণের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। অন্যদিকে টানা দুই হারে আসরের শুরুতেই ভীষণ চাপে পড়ে গেল প্রোটিয়ারা।
আজ (রোববার) ইংল্যান্ডের কেনিংটন ওভালে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৩৩০ রানের পাহাড় গড়ে টাইগার বাহিনী। বিশ্বকাপে তো বটেই, ওয়ানডেতেও এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। এই রান তাড়া করে জিততে হলে বিশ্বরেকর্ড গড়তে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। কারণ বিশ্বকাপে এত রান তাড়া করে জেতেনি আর কেউ। বিশাল এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩০৯ রান তুলতে সক্ষম হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
বাংলাদেশের বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের মুখে কুইন্টন ডি কক ও এইডেন মার্করামের উদ্বোধনী জুটি দশম ওভার পর্যন্ত টিকলেও বিধ্বংসী হতে পারেনি। দলীয় ৪৯ রানের মাথায় ডি কককে রানআউট করে এই জুটি ভাঙেন মুশফিকুর রহিম।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৫৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন এইডেন মার্করাম ও ফাফ ডু প্লেসিস। তবে ২০তম ওভারে এসে নিজের চতুর্থ বলে মার্করামকে সরাসরি বোল্ড করে দারুণ এক কীর্তি গড়েন সাকিব আল হাসান। ওয়ানডেতে ৫০০০ রান ও ২৫০ উইকেটে ‘ডাবল’ আছে মাত্র চার জন ক্রিকেটারে। এইডেন মার্করামকে আউট করে সেই ডাবলের মালিক হলেন সাকিব।
এরপর ফাফ ডু প্লেসিসকে দারুণ এক ঘূর্ণিতে বোল্ড করলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ৫৩ বলে ৫টি চার ও একটি ছক্কায় ৬২ করেন প্রোটিয়া অধিনায়ক।
এক পর্যায়ে, ৩৫ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২০২ রান। ঠিক পরের বলেই দু’বার জীবন পাওয়া মিলারকে ক্যাচে পরিণত করেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। ৪৩ বলে ২টি চারে ৩৮ রান করেন এই ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তিনি রাসি ভন ডার ডুসেনের সঙ্গে ৫৫ রান করেছেন।
এরপর আন্দিলে ফেলুকায়োকে (৮) ফুলটস বলে সাকিব আল হাসানে ক্যাচে মাঠ ছাড়া করান মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। নিজের আগের ওভারেই ৪১ রান করা রাসি ভন ডার ডুসেনকে সরাসরি বোল্ড করেন সাইফুদ্দিন। ৩৮ বলে দুটি চার ও এক ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান ডুসেন।
সর্বশেষ বাউন্ডারি লাইনে থাকা সৌম্য সরকারের ক্যাচে ক্রিস মরিসকে (১০) প্যাভিলিয়নে পাঠান মোস্তাফিজুর রহমান। নিজের পরের ওভারেই একপাশ আগলে রাখা জেপি ডুমিনিকে ইনসাইডেজ বোল্ড করেন ‘দ্য ফিজ’ খ্যাত এই তারকা।
টাইগার বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিন উইকেট পান মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া সাইফুদ্দিন দুটি, মিরাজ ও সাকিব একটি করে উইকেট পান।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে ৮.২ ওভারে ৬০ রান করেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবাল। হাতের চোট নিয়ে খেলতে নেমে প্রত্যাশিত ব্যাটিং করতে পারেননি তামিম ইকবাল।
ইনিংসের শুরু থেকে সৌম্য সরকার একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকালেও উইকেটের অন্য প্রান্ত আগলে রাখেন তামিম। কিন্তু আন্দিলে ফিলোকাওয়ের গতির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন দেশসেরা ওপেনার। তার আগে ২৯ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১৬ রান করেন তামিম।
এরপর ১৫ রানের ব্যবধানে ফেরেন অন্য ওপেনার সৌম্য সরকার। দলীয় ৭৫ রানে ক্রিস মরিসের বাউন্সি বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে বিপদে পড়েন দুর্দান্ত খেলতে যাওয়া সৌম্য। ক্রিস মরিসের করা বলটি সৌম্যর মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছিল।
উড়ে আসা সেই বলটি সৌম্যর গ্লাভসে লেগে উইকেটকিপার কুইন্টন ডি ককের ক্যাচে পরিনত হয়। সাজঘরে ফেরার আগে ৩০ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৪২ রান করেন করেন সৌম্য।
৭৫ রানে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর হাল ধরেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেটে তারা ১৪১ বলে ১৪২ রানের জুটি গড়েন। তাদের অনবদ্য জুটিতে বড় সংগ্রহ পায় টাইগাররা।
ক্যারিয়ারের ৪৩তম ওডিআই ফিফটি গড়ার পর সেঞ্চুরি পথেই ছিলেন সাকিব। কিন্তু ইমরান তাহিরের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। তার আগে ৮৪ বলে ৮টি চার ও এক ছক্কায় ৭৫ রান করেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার।
এদিকে আন্দিলে ফিলোকাওয়েকে বাউন্ডারি হাঁকানোর মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩৪তম ফিফটি গড়েন মুশফিক। ফিফটির পর তিনিও সেঞ্চুরির পথে ছিলেন। দলীয় ২৫০ রানে আউট হন মুশফিক। তার আগে ৮০ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ৭৮ রান করেন এ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।
ইনিংসের শেষ দিকে রীতিমতো তাণ্ডব চালান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ৪৩ বলে ৬৬ রানের জুটি গড়েন তারা। ২০ বলে ২৬ রান করে ফেরেন সৈকত। মাত্র ৩৩ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় অপরাজিত ৪৬ রান করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
৭৫ রান ও এক উইকেট নিয়ে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার পান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।