‘পাইলট আটকের খবর সঠিক নয়’: ক্ষমা চাইলেন ফজল মাহমুদ
-
পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ
কাতারের দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাসপোর্ট না থাকার কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাইলট আটক হওয়ার যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা ঠিক নয় বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, দোহায় তাদের কোনো পাইলট আটক, গ্রেপ্তার বা আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “৫ জুন বিমানের ঢাকা-চট্টগ্রাম-দোহা রুটে বিজি১২৫ ফ্লাইটের অপারেটিং ক্যাপ্টেন হিসেবে ফ্লাইট পরিচালনা করেন ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। দোহায় অবতরণের পর তিনি লক্ষ্য করেন যে তাঁর পাসপোর্ট সঙ্গে নেই। এমন অবস্থায় তিনি ইমিগ্রেশনে না গিয়ে দোহা বিমানবন্দরে বিমানের স্টেশন ম্যানেজার ও ঢাকা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্টের আগে ট্রানজিট হোটেল অরিক্সে চলে যান। গত ৬ জুন সন্ধ্যায় ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট দোহায় পাঠানো হয় এবং তিনি স্বাভাবিক নিয়মে কোনো জটিলতা ছাড়াই ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে দোহা নগরীতে বিমানের ক্রুদের নির্ধারিত হোটেল ক্রাউন প্লাজায় উঠেন। বর্তমানে তিনি হোটেলে অবস্থান করছেন এবং বিমান কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০ জুন ভোরে দোহা থেকে বিজি১২৬ ফ্লাইট পরিচালনা করে ঢাকায় আসবেন।”
‘ভুল হয়েছে, ক্ষমা চাই’
এদিকে, পাসপোর্ট না নিয়েই ফ্লাইটে করে দেশ ছাড়ার ঘটনাকে নিজের ভুল হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছেন পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “হিউম্যান বিয়িং মানেই কিছু ভুল, সে হিসেবে আমার ভুল হয়েছে। আমি ক্ষমা চাই।”
নিজের ভুলের সঙ্গে সঙ্গে সেদিন ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাও ভুল করেছেন বলে মনে করছেন বিমানের এই পাইলট। তিনি বলেন, “আমার ভুল তো ছিলই, তারও (দায়িত্বরত কর্মকর্তা) ভুল হয়েছে। তিনি যদি পাসপোর্ট দেখতে চাইতেন, তাহলে আমার ভুলটা তখনই ধরা পরত। আমি বলব, দু’জনের ভুল মিলিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে।”
তিনি আরও বলছেন, ৫ জুন তিনি যে ফ্লাইট চালিয়ে নিয়ে গেছেন, সেই ফ্লাইটের অনেক কেবিন ক্রু’র পাসপোর্টও সেদিন দেখতে চাওয়া হয়নি।

পাসপোর্টের গুরুত্ব বুঝেও কেন তা সঙ্গে নেয়ার কথা ভুলে গেলেন-জানতে চাইলে ফজল মাহমুদ বলেন, “আমার পাসপোর্টসহ অন্যান্য দরকারি জিনিস আমার একটি ব্যাগে থাকে। সেদিন সেই ব্যাগ নিয়ে ব্যাংকে যাই, প্রয়োজনীয় কাজ সেরে আবার অফিসে (বিমান বাংলাদেশের অফিস) আসি। তারপর ব্যাগটি সেখানে রেখেই বাসায় চলে আসি। পরে ভুল করে আর পাসপোর্টটি নিয়ে আসা হয়নি। ফ্লাইট থেকে নামার পর যখনই বুঝতে পারলাম পাসপোর্ট নেই, সঙ্গে সঙ্গে আমি ঢাকায় যোগাযোগ করি। পাসপোর্ট সঙ্গে না থাকায় এয়ারপোর্টের ভেতরে ট্রানজিট এলাকার হোটেলে থেকেছি ঢাকা থেকে পাসপোর্ট আসা পর্যন্ত। দেশ থেকে পাসপোর্ট আসার পরই আমি ক্রাউন প্লাজা হোটেলে উঠেছি।”
দুটি তদন্ত কমিটি গঠিত
এ ঘটনায় এরইমধ্যে শুক্রবার দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অন্যটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্ত কমিটিকে ক্যাপ্টেন ফজলের পাসপোর্ট ছাড়াই দোহা চলে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানসহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব অবহেলার বিষয়ে দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের কার্যপদ্ধতিতে কোনো ত্রুটি থাকলে তা শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কমিটিতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে তিন কার্যদিবসের মধ্যে।
অন্যদিকে পাইলট কিভাবে পাসপোর্ট ছাড়াই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন, সে বিষয়টি উদঘাটনের পাশাপাশি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো ও সুষ্ঠু ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করতে তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদন জমা দিতে এই কমিটিকে সময় দেওয়া হয়েছে সাত কার্যদিবস।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৮