রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনেককিছুই গোপন করেছে জাতিসংঘ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন
-
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, তারা অনেককিছুই গোপন করেছে। তার জন্য তারা নিশ্চয়ই দায়ী।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ জুন) জেনেভা কনভেনশনের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ফর স্ট্রাটেজিক স্টাডিস-এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের ভূমিকা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বলেন, ‘বহু বছর ধরে মিয়ানমারে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসা, বিদ্বেষ এবং বর্বর আক্রমণ চলছে। কিন্তু জাতিসংঘ এই বিষয়ে কখনোই সজাগ হয়নি। আমরা প্রায়ই বলে থাকি দুনিয়া থেকে সংঘাত এড়ানোর জন্য আমাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। কিন্তু জাতিসংঘ এই নীতিতে বিশ্বাসী হলেও কাজ করে না।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধে আমরা শ্মরণার্থী হবার কষ্টের ভুক্তভোগী। তেমনি মিয়ানমারের অত্যাচারে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জেনেভা কনভেনশনের আইনগুলো যদি মানা হতো তাহলে এ ধরণের ঘটনা রোধ করা যেতে। আজ মিয়ানমার, ফিলিস্তিন যেখানেই মানবতা লঙ্ঘিত হচ্ছে তারই প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে তুলে দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।’
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের আগস্টে পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালালে সেখানে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৭ লাখেরও বেশি মানুষ।
জাতিগত নিধনের ভয়াবহ বাস্তবতায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বড় অংশটি বাংলাদেশে পালিয়ে এলেও জাতিসংঘের হিসাবে ৪ লাখেরও বেশি মানুষ এখনও সেখানে থেকে গেছে। বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের জন্য স্থাপন করা আইডিপি ক্যাম্প নিয়মিত সহায়তা দিয়ে আসছে জাতিসংঘ।
২০১৭ সালে রোহিঙ্গাবিরোধী নতুন অভিযান জোরালো করার পাশাপাশি এসব ক্যাম্প বন্ধ শুরুর অঙ্গীকার করে মিয়ানমার সরকার। তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। উল্টো অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের পরিস্থিতি দিনকে দিন আরও অবনতির দিকে গেছে। জাতিসংঘ এই সামরিক অভিযানকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ বলে আখ্যা দেয়।
ওদিকে, রোহিঙ্গা সংকট খতিয়ে দেখতে গুয়াতেমালার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গার্ড রোজেনথালকে নিয়োগ দেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনিও গুয়েতেরেস। মিয়ানমারে জাতিসংঘের কর্মকাণ্ড প্রসংগে রোজেনথাল সম্প্রতি বিবিসিকে বলেছেন, এটা সমষ্টিগত দায়িত্ব ছিলো। একে সত্যিকার অর্থে জাতিসংঘের পদ্ধতিগত ব্যর্থতা বলা যেতে পারে। তিনি বলেন, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মিয়ানমারে বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন নাকি কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবেন তা নিয়েই একমত হতে পারছিলেন না। আর তৃণমূল থেকে জাতিসংঘের সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ প্রতিবেদন।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/এমবিএ/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।