'রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন করা না গেলে দেশের নিরাপত্তা ব্যাহত হতে পারে'
-
জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে না পারলে আমাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আজ (বুধবার) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সদস্য নূর মোহাম্মদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের এসব নাগরিক এখানে স্বেচ্ছায় আসেননি। সে দেশের সেনাবাহিনী তাদের জোর করে বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করেছে। নির্মম নির্যাতনের শিকার এসব মানুষের খাদ্য, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক মানবিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি ছিল। এজন্য আমরা তাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দিয়েছি। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্থানীয় এনজিওর সঙ্গে সমন্বয় করে এই বিপুলসংখ্যক নাগরিককে আমরা আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদান করছি।’
তিনি সংসদে আরো জানান, ‘রাখাইন রাজ্যে যথাযথ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মহল মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। আমরা বার বার বিভিন্ন ফোরামে বলেছি যে, এসব বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার জনগণকে ফেরত নেয়ার বিষয়টি মিয়ানমার সরকারের ওপর বর্তায় এবং তাদেরই উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য মিয়ানমার সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। উপরন্তু মিয়ানমার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে এবং বলছে, বাংলাদেশের অসহযোগিতার কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্ব হচ্ছে।'
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন চীন সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবসনে সেদেশের কার্যকর সমর্থন আদায় করতে কূটনৈতিক উদ্যাগ নিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
'রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন হস্তক্ষেপ করবে না'
তবে, চীনের পক্ষ থেকে আজকেই জানানো দেয়া হয়েছে, রোহিঙ্গা সংকট, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপাক্ষিক বিষয়। এই ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করবে না চীন।
বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে চীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের থিংকট্যাংক বলে পরিচিত চায়না ইন্সস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহ-সভাপতি ড. রুয়ান জংজি এমন মন্তব্য করে জানান, বিশেষ কোনো দেশের প্রতি দুর্বলতা নেই চীনের।
আগামী জুলাইয়ের ১ থেকে ৪ তারিখ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করবার কথা রয়েছে। সেই বিষয়টি মাথাই রেখেই আয়োজন করা হয় সমসাময়িক বিশ্বে চীনের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারের। যেখানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ থিংকট্যাংক ড. রুয়ান জংজি।
অনুষ্ঠানে ড. রুয়ান জংজি চীনের বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ, চীন-যুক্তরাষ্ট্র-কোরিয়ার সর্ম্পকের টানাপোড়েনসহ আঞ্চলিক উন্নয়ন, অগ্রগতি ও চীনের আকাংখা নিয়েও কথা বলেন।
ড. রুয়ান জংজি বলেন, 'চীন সংকট সমাধানে আগ বাড়িয়ে কিছু করবে না। কারণ আমরা মনে করি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার নিজেরাই সমাধানে সক্ষম। আর উভয় দেশই আমাদের বন্ধু। বিশেষ কারো প্রতি আমরা দুর্বল এই ধারনাটি সঠিক নয়। তাছাড়া আমরা হস্তক্ষেপে বিশ্বাস করি না।“
ড. রুয়ান জংজির বলেন, চীন বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভসে জন্য যে ১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন তার অর্ধেক খরচ দিতে সক্ষম। এই অঞ্চলের সকল দেশেরই তাই উচিত হবে এর গুরুত্বপূর্ণ অংশিদার হওয়।
তিনি আরও বলেন, 'মিয়ানমার ও বাংলাদেশে উভয় দেশেই আমাদের যথেষ্ট বিনিয়োগ আছে। আমরা সার্বিকভাবে এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য কারো কাজ করছি। গুরুত্বপূর্ণ অংশিদার হয়ে সকলের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।'
উন্নত এশিয়াই আগামী দিনের বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান/আশরাফুর রহমান/২৭