সুন্দরবনের পরিবেশ উন্নয়নে আরও এক বছর সময় দিল বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i71745-সুন্দরবনের_পরিবেশ_উন্নয়নে_আরও_এক_বছর_সময়_দিল_বিশ্ব_ঐতিহ্য_কমিটি
বাংলাদেশের সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ  বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায়  অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি  না, সে বিষয়ে এখুনি সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতি উন্নয়নে  এক বছর বাড়তি সময় দেয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। ২০২০ সালে  অনুষ্ঠিতব্য  বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৪তম অধিবেশনে এ  ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুলাই ০৫, ২০১৯ ১৪:৩৬ Asia/Dhaka
  • সুন্দরবনের পরিবেশ উন্নয়নে  আরও এক বছর সময় দিল বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি

বাংলাদেশের সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ  বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায়  অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি  না, সে বিষয়ে এখুনি সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতি উন্নয়নে  এক বছর বাড়তি সময় দেয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। ২০২০ সালে  অনুষ্ঠিতব্য  বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৪তম অধিবেশনে এ  ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভায় এ সুন্দরবনের  বিপন্ন পরিবেশ নিয়ে আলোচনা শেষে এ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

এ প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সুন্দরবন পরিদর্শনে আসবে। তারা সুন্দরবনের প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও পানিপ্রবাহের ওপর একটি সমীক্ষা করবে। চারপাশের শিল্পকারখানা বিশেষ করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা মূল্যায়ন করে দেখবে।

গতকাল বাকুতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করেছে ইউনেস্কো। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় সুন্দরবন নিয়ে ১২ মিনিট ধরে আলোচনা হয়। সেখানে মোট ১১টি সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীসহ মোট ১০ জন উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সাফাই যুক্তি উপস্থিত করেন।

বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনার শুরুতে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভাপতি আঠুলফাস গারায়াভ সুন্দরবন বিষয়ে ইউনেস্কোর অবস্থান তুলে ধরতে আহ্বান জানান। সেখানে সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্যের ১৬.৩ ধারা অনুযায়ী বিশ্ব ঐতিহ্যের পাশে বড় কোনো শিল্পকারখানা হতে দেয়া যাবে না। বাংলাদেশ তা লঙ্ঘন করেছে।

সভার শেষ পর্যায়ে বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ওয়াচের একজন প্রতিনিধি বলেন, কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন বিশ্বের টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।  বাংলাদেশ প্যারিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। অপরদিকে  বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে বাংলাদেশ। এটি প্যারিস চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের চারপাশে ১৫৪টি শিল্পকারখানা স্থাপনের  ব্যাপারেও  বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।  কমিটি বাংলাদেশের সুন্দরবনসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা (এসইএ) করার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে। সুন্দরবনের সুরক্ষা এবং বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ১১ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশকে জমা দিতে হবে।

সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার যেসব অঙ্গীকার করেছিল, তা যথাযথভাবে পূরণ করা হচ্ছে না বলে জানিয়ে আসছে ইউনেস্কো। এই পরিস্থিতিতে গত মাসে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র।

এদিকে,  গতকাল ঢাকায় প্রকাশিত  এক বিবৃতিতে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল বলেছেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা পরিবেশসম্মত না। এই প্রকল্পগুলো সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ  ও পরিবেশের  অপূরণীয় ক্ষতি করবে। ফলে সরকারের উচিত হবে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্মান রক্ষায় উদ্যোগ নেয়া।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/এমএএইচ/৫