রাখাইনকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন শেখ হাসিনা
-
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত করে নেবার ব্যাপারে একজন মার্কিন কংগ্রেসম্যানের প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা আজ (সোমবার) বিকেলে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে তার সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের ভূখণ্ড নিয়ে সন্তুষ্ট আছি। কারো ভুমি দখল করার ইচ্ছা আমাদের নেই। এরকম প্রস্তাবকে অসৎ অভিহিত করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে রয়েছে অনেক সমস্যা আমরা তার মধ্যে জড়াতে চাই না।
উল্লেখ্য, মার্কিন কংগ্রেসে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চল বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান ব্রাডলী শারম্যান প্রস্তাব করেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের জন্য মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশকে বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্ত করে ফেলা উচিত।
এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মার্কিন কংগ্রেসম্যান যিনি এ কথা বলেছেন তার বরং উচিত রোহিঙ্গারা যাতে দ্রুত তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে সে ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করা।
ওদিকে, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। তিনি উল্লেখ করেন, চীন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দু’বার মিয়ানমারে পাঠিয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনে তারা আবারও মন্ত্রীকে মিয়ানমারে পাঠাবে।’
আজকের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার এবারের চীন সফরে দ্বিপাক্ষিক বিষয় ছাড়াও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী লি খোচাং, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনা নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘এসব আলোচনার সময় সকল নেতাই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন এবং এই সমস্যা সমাধানে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।’
শেখ হাসিনা জানান, তার সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীন দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে বলেছেন, আমরা পরস্পরের সত্যিকারের বন্ধু হয়ে থাকব। আমরা দুই প্রতিবেশী দেশ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছি।’
‘তার দেশ সব সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টার পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। একইসঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে একমত হন’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড ইকোনামিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) অংশ নিতে এবং চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খোচাং এর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ জুলাই থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত চীন সফর করেন।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৮