গণপিটুনিতে মরছে নিরাপরাধ নারী-পুরুষ: উদ্বিগ্ন পুলিশ কর্তৃপক্ষ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i72164-গণপিটুনিতে_মরছে_নিরাপরাধ_নারী_পুরুষ_উদ্বিগ্ন_পুলিশ_কর্তৃপক্ষ
দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেলেধরার গুজবকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কয়েকজন নিরাপরাধ নারী-পুরুষ গণপিটুনিতে নিহত হওয়ায় প্রক্ষিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে খোদ পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ২২, ২০১৯ ১৩:৪২ Asia/Dhaka
  • গণপিটুনিতে মরছে নিরাপরাধ নারী-পুরুষ: উদ্বিগ্ন পুলিশ কর্তৃপক্ষ

দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেলেধরার গুজবকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কয়েকজন নিরাপরাধ নারী-পুরুষ গণপিটুনিতে নিহত হওয়ায় প্রক্ষিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে খোদ পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

আজ (সোমবার) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারাদেশের পুলিশের ইউনিটকে সতর্ক বার্তা পাঠিয়ে এরকম গুজব বন্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো এবং জনসচেনতামূলক কর্মসূচি গ্রহনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ব্লগ এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছেলেধরা-সংক্রান্ত বিভ্রান্তিমূলক পোস্টে মন্তব্য বা গুজব ছড়ানোর পোস্টের ব্যাপারে  তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

ছেলেধরার গুজব ও গণপিটুনি প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, স্কুলে অভিভাবক ও গভর্নিং বডির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়, ছুটির পর অভিভাবকরা যাতে শিক্ষার্থীকে নিয়ে যায় সে বিষয়ে নিশ্চিত করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা, প্রতিটি স্কুলের ক্যাম্পাসের সামনে ও বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, মেট্রোপলিটন ও জেলা শহরের বস্তিতে নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও বার্তায় গুজব বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গুজববিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি, এলাকায় মাইকিং-লিফলেট বিতরণ, মসজিদের ইমামদের ছেলেধরা গুজববিরোধী আলোচনার নির্দেশনা।

এই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে পুলিশের কোন ইউনিট কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে পুলিশ সদরদপ্তরে ফ্যাক্সের মাধ্যমে জানাতে বলা হয়েছে।

অশনি সংকেত

এদিকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারেণেই মানুষ আজ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা নেই। মানুষ যখন নিজে হাতে আইন তুলে নেয় তখন সেটা একটি দেশের জন্য অশনি সংকেত। যেভাবে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিরাপরাধ মানুষ মারা হচ্ছে এটা সমাজের বিরাট অবক্ষয়। সমাজে নিরাপদে বসবাস করাই কঠিন। যারাই আইন নিজের হতে তুলে নিবে তাদের কঠোর শাস্তি হতে হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, পুলিশ নিজেই আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। বিচারের আগেই পুলিশের হেফাজতে আসামীকে ক্রসফায়ার বা কথিত বন্দুক যুদ্ধে মেরে ফেলা হচ্ছে।#

পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/এমবিএ২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।