রূপপুর প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে ৩৪ কর্মকর্তা জড়িত: তদন্ত প্রতিবেদন
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i72238-রূপপুর_প্রকল্পে_অনিয়ম_ও_দুর্নীতির_সঙ্গে_৩৪_কর্মকর্তা_জড়িত_তদন্ত_প্রতিবেদন
বাংলাদেশের পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মকর্তাদের আবাসনের আসবাব কেনার ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম খতিয়ে দেখার জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্তে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৪ জন কর্মকর্তার দুর্নীতি ও অনিয়মের সম্পৃক্ততা পেয়েছে কমিটি।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুলাই ২৪, ২০১৯ ১৫:২৯ Asia/Dhaka
  • (ডানে) শ ম রেজাউল করিম
    (ডানে) শ ম রেজাউল করিম

বাংলাদেশের পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মকর্তাদের আবাসনের আসবাব কেনার ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম খতিয়ে দেখার জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্তে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৪ জন কর্মকর্তার দুর্নীতি ও অনিয়মের সম্পৃক্ততা পেয়েছে কমিটি।

আজ (বুধবার) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “দুটি কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনায় আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, ৩৪ জন কর্মকর্তা বা ব্যক্তি এই ঘটনায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এর মধ্যে ৩০ জন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এবং চারজন বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিভাগের। তাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, আমরা সেই মন্ত্রণালয়কে লিখেছি।”

রেজাউল করিম জানান, "এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই টাকা ফেরত নেয়া হবে। তাদের এখনও অনেক বিল পাওনা আছে, সেখান থেকে এই টাকা কেটে রাখা হবে। আর আমাদের মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দফতরের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তা ইতিমধ্যে অবসরে গেছেন। তাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যেহেতু তারা দায়িত্বে নেই। এজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলেছি।”

রেজাউল করিম বলেন, “যারা চাকরিতে আছেন গুরুতর অভিযোগের কারণে তাদের ১৬ জনকে সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অপর ১০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় মামলার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে

এর আগে গত ২১ জুলাই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুটি কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় তা দেখবেন বলে আদেশ দেয় হাইকোর্ট। এ জন্য দুই মাস সময় বেঁধে দেয় আদালত।

বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দুটি দাখিল করার পর আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এ প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল গণপূর্ত থেকে করা কমিটি। এতে পাবনার রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য বিছানা, বালিশ ও আসবাবপত্র অস্বাভাবিক মূল্যে ক্রয় দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন দুটিতে রূপপুর বালিশকাণ্ডের ঘটনায় ৩৬ কোটি ৪০ লাখ নয় হাজার টাকার গরমিল পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বাড়তি অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনারও সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

এ ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগের পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারটি ভবনে আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম সরবরাহ কাজের চুক্তি মূল্য ১১৩ কোটি ৬২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। অথচ মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে ৭৭ কোটি ২২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ চুক্তি মূল্য সরবরাহ করা মালামালের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার টাকা বেশি। এই বাড়তি পরিশোধিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৪