নাগরিকত্ব ও পূর্ণ অধিকার ছাড়া রাখাইনে ফিরতে চায় না রোহিঙ্গারা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i72414-নাগরিকত্ব_ও_পূর্ণ_অধিকার_ছাড়া_রাখাইনে_ফিরতে_চায়_না_রোহিঙ্গারা
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে জাপান। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন এ কথা জানান। এর আগে তিনি জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনোর সাথে বৈঠক করেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুলাই ৩১, ২০১৯ ১২:৩৯ Asia/Dhaka

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে জাপান। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন এ কথা জানান। এর আগে তিনি জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনোর সাথে বৈঠক করেন।

জাপানের প্রস্তাবে ঢাকার অবস্থান কী জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ প্রস্তাবটি বিবেচনা করবে।

এর আগে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে মধ্যস্থতার জন্য একাধিক বৈঠকের আয়োজন করেছিল চীন। এই প্রেক্ষাপটে একই ইস্যুতে জাপানের মধ্যস্থতা প্রস্তাব কোনো দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করবে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় না। তাদের মধ্যে ঝগড়া থাকতে পারে। কিন্তু আমরা আমাদের স্বার্থ দেখব।

ড. মোমেন বলেন, বৈঠকে আমি জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে না গেলে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এখান থেকে তারা যত তাড়াতাড়ি যাবে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে  জাপানের বিনিয়োগ তত দ্রুত সুরক্ষিত হবে।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনোর সঙ্গে ড. এ কে আব্দুল মোমেন

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত সোমবার রাতে বাংলাদেশে আসেন এহং  মঙ্গলবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সম্মানের সাথে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বদেশে প্রত্যাবাসনের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

তবে, দফায় দফায় বৈঠকের পরও নিজেদের দাবিতে অবস্থানে অনড় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা। নাগরিকত্ব ও পূর্ণ অধিকার ছাড়া রাখাইনে ফিরতে রাজি নন তারা। মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তিন দফায় বৈঠক তেমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যদিও কোনো শর্তছাড়াই নিজ দেশে ফিরতে রাজি সাড়ে চারশ' হিন্দু রোহিঙ্গারা। দ্রুত সময়ে তাদের ফেরাতে সম্মত মিয়ানমারও। তবে সকল বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে চাপ বাড়ানোর দাবি করে আসছেন রোহিঙ্গা  নেতারা।

এদিকে গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটিজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অনুষ্ঠিত বিমসটেক নিরাপত্তা সংলাপ ফোরামে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী বলেছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট দীর্ঘায়িত হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে, যার প্রভাব বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর পড়বে। এ ব্যাপারে অভ্যন্তরীণ বা বাইরের কোনো শক্তি পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে।

এর আগে রোববার (২৮ জুলাই) সকালে, মিয়ানমারের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয় ক্যাম্পে যান সেখানে ৩৫ সদস্যের রোহিঙ্গা দলের সঙ্গে তৃতীয় দফায় বৈঠক করেন তারা। এতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়েসহ আসিয়ানভুক্ত দেশের ৫ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। টানা দু'ঘণ্টার বৈঠকে প্রত্যাবাসন নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে রুদ্ধদার আলোচনা হয়। তবে তেমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারেনি দু'পক্ষ।

এদিকে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও যৌথ সংলাপ চায় মিয়ানমার। তবে সব রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরাতে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্ট মহল।# 

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।