ভেস্তে গেল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া: এখনও আশাবাদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i73019-ভেস্তে_গেল_রোহিঙ্গা_প্রত্যাবাসন_প্রক্রিয়া_এখনও_আশাবাদী_পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখলেও কক্সবাজার থেকে আজ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। প্রধান কারণ, বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহ। 
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
আগস্ট ২২, ২০১৯ ১৩:৫৯ Asia/Dhaka

বাংলাদেশ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখলেও কক্সবাজার থেকে আজ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। প্রধান কারণ, বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহ। 

এ প্রসঙ্গে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একজন স্বেচ্ছাসেবক ওমর ফারুক জানান, বাস্তচ্যূত রোহিঙ্গারা তাদের নাগরিকত্বের অধিকার, নিজ নিজ গ্রামে নিরাপত্তার বসবাস ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার নিশ্চয়তা ছাড়া মিয়ানমারে যেতে রাজি হয় নি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম বলেছেন, তাদের দিক থেকে সব রকম প্রস্তুতি থাকার পরও রোহিঙ্গারা সাড়া দেয় নি।  

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলেন কক্সবাজারের ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম

আজ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কক্সবাজারের ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, শর্ত পূরণ না হলে রোহিঙ্গাদের একজনও স্বদেশে ফিরতে চান না। প্রত্যাবাসনের তৎপরতা শুরু হলে মিয়ানমারে নাগরিকত্ব, স্বাধীনভাবে চলার নিরাপত্তা, ফেলে আসা সম্পত্তি ফেরত ও নিরাপত্তা নজরদারির শর্ত দিয়েছিলেন বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা।

এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়ার বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করে বলেছেন, আমরা আশা করেছিলাম আজ (বৃহস্পতিবার) স্বল্প আকারে হলেও প্রত্যাবাসন শুরু হবে। তবে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। কিন্তু আমরা আশা ছাড়িনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের এখানে থাকার জন্য অনেকেই প্ররোচনা দিচ্ছেন। প্রত্যাবাসন নিরুৎসাহিত করে লিফলেট বিতরণ করছেন। ইংরেজিতে প্ল্যাকার্ড লিখে দিচ্ছেন। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে থাকার জন্য যারা প্ররোচনা দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আমরা আশাবাদী। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। পরবর্তী সময়ে কী করব, আমরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাব।

ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন

এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, যারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাইবেন না তাদেরকে নোয়াখালীর ভাসানচরে পাঠানো হবে। পাশাপাশি কক্সবাজারের একাধিক শিবিরে যেসব বেসরকারি বিদেশি উন্নয়ন সংস্থা প্রত্যাবাসনের বিপক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গারা ফেরত না গেলে ভবিষ্যৎটা তাদের খারাপ হবে। কারণ, তাদের তো আমরা এতদিন বসিয়ে খাওয়াতে পারব না। তাদের পেছনে আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করছি। বিদেশিরা যে সাহায্য করছে আগামীতে এ সাহায্যও কমে যাবে।’

ওদিকে, গত এক সপ্তাহ ধরে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যের লাশিও শহরে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৯ জন। এছাড়া ২ হাজারের বেশী গৃহহীন হয়েছে। বুধবার দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে এ অঞ্চলে নতুন করে বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।  সরকারবিরোধী নর্দার্ন এলায়েন্স বিদ্রোহীরা ঐদিন একটি আর্মি স্কুলে হামলা চালায়। এতে প্রায় ১ ডজন মানুষ নিহত হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছিল সেনাবাহিনীর সদস্য।#

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।