রোহিঙ্গাদের ফেরাতে কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা: ওবায়দুল কাদের
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i73076-রোহিঙ্গাদের_ফেরাতে_কৌশলে_এগিয়ে_যাচ্ছি_আমরা_ওবায়দুল_কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারের সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে বাংলাদেশ সরকার কৌশলী অবস্থান নিয়েছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
আগস্ট ২৪, ২০১৯ ১৫:০৭ Asia/Dhaka
  • রোহিঙ্গাদের ফেরাতে কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারের সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে বাংলাদেশ সরকার কৌশলী অবস্থান নিয়েছে।

আজ (শনিবার) রাজধানীতে বিআরটিসি শ্রমিক-কর্মচারী লীগের শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘এখানে ব্যর্থতার কোনো বিষয় নেই। এখানে কৌশলগত বিষয় রয়েছে। অনেক সময় দু’পা এগিয়ে এক পা পিছিয়ে যেতে হয়। এটিকে কূটনীতিক ব্যর্থতা বলা যাবে না।'

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার সেখানে পরিবেশ সৃষ্টি করেনি, নিরাপত্তা সৃষ্টি করেনি, সিটিজেনশীপের মতো বিষয়টি সুরাহা করতে পারেনি; এজন্য তাদের বিশ্বাস করতে পারেনি রোহিঙ্গারা। তারা অত্যাচারিত নির্যাতিত হয়েছে। এর দায় মিয়ানমার সরকারকে নিতে হবে। সেজন্য আমরা যুদ্ধের পথে যাবো না, আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখবো। সেই কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।’

রোহিঙ্গা শরণার্থী

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে জাতিসংঘ ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে শেখ হাসিনা সরকার যতটা কূটনীতিক সাফল্য অর্জন করেছে এটা অন্য কোনো দেশে সম্ভব হয়নি। এখানকার সমস্যাটা জটিল। এই জটিলতার মধ্যে যুদ্ধ পরিহার করে ঠাণ্ডামাথায় যুদ্ধের উস্কানির মধ্যে যুদ্ধের পথে না গিয়ে শান্তির মাধ্যমে আলাপ-আলোচনা করে এর সমাধান করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’

সরকারের  কূটনৈতিক ব্যর্থতার যারা সমালোচনা করছেন তাদের উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের কুটনৈতিক প্রয়াস এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এই ব্যাপারে আমাদের মনে রাখতে হবে মিয়ানমারেরও বন্ধু আছে এবং শক্তিশালী বন্ধু আছে।’

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদে অবস্থান কক্সবাজার-টেকনাফ এলাকার পর্যটনসহ সব বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের লালন পালন আশ্রয় দেয়ায় আমাদের ট্যুরিজম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইকোলজি অ্যফেকক্টটে হচ্ছে। আমাদের ইকোনমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, সেই পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

ড. এ কে আব্দুল মোমেন

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতেই হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এদিকে সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সিলেটের একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের মাঝে আস্থা তৈরি করতে পারেনি বলেই তারা তাদের দেশে ফিরতে রাজি হচ্ছে না। তবে দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতেই হবে। আর রোহিঙ্গাদেরও ফিরে যেতে হবে।’

এ কে আব্দুল মোমেন জানান, ‘সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে রাজি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। প্রত্যাবাসনে ব্যর্থতার এ দায় মিয়ানমারের।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারকে আগেই প্রস্তাব দিয়েছিলাম রোহিঙ্গাদের ১০০ জন নেতাকে সেখানে নিয়ে যেতে। তাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য সেখানে কি কি করা হয়েছে সেগুলো দেখে এসে তারা অন্যদের বোঝাবে। সেখানে চীন ১০০টি এবং ভারত ২৫০ বাড়ি বানিয়ে দিয়েছে। সেগুলো দেখে এসে তারা যখন অন্য রোহিঙ্গাদের বলতো তখন তারা আশ্বস্ত হতো। প্রত্যাবর্তনে রাজি হতো। এ অবস্থায়  প্রত্যাবর্তনের ব্যর্থতার দায় তাদেরই।’#

পার্সটুডে/‌আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।