বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের দুই বছর: প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i73089-বাংলাদেশে_রোহিঙ্গা_অনুপ্রবেশের_দুই_বছর_প্রত্যাবাসন_অনিশ্চিত
মিয়ানমারে জাতিগত নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেবার ঘটনাটি শুরুতে মানবিক সমস্যা হিসেবে দেখা হলেও গত দু’বছরে তা বাংলাদেশের জন্য সংকট থেকে মহাসংকটে পরিণত হয়েছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
আগস্ট ২৫, ২০১৯ ১২:০৬ Asia/Dhaka
  • বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের দুই বছর: প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত

মিয়ানমারে জাতিগত নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেবার ঘটনাটি শুরুতে মানবিক সমস্যা হিসেবে দেখা হলেও গত দু’বছরে তা বাংলাদেশের জন্য সংকট থেকে মহাসংকটে পরিণত হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে ব্যাপকভাবে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা নিধন অভিযান শুরু করে। পরিকল্পিত এ অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাত লাখের বেশী অসহায় নারী-পুরুষ ও শিশু। এর আগে ১৯৯০ সাল থেকে দফায় দফায় নির্যাতনের মুখে মুসলিম আধ্যুষিত রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আরো চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের সীমান্ত জেলা কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে জেলার টেকনাফ ও উখিয়ায় ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করে এসব রোহিঙ্গারা।

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গত দু’বছরে আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা উদ্যোগে নেয়া হলেও একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো যায়নি; বরং এখনো সাগর বা স্থল পথে অনুপ্রবেশ চলছে। 

এদিকে, এগারো লাখ উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে গিয়ে স্থানীয় জনবসতির ওপর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। বাড়ছে অপরাধের ঘটনা। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে টেকনাফের হ্নীলা জাদিমুরা এলাকায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন প্রায় ৪৬ জন রোহিঙ্গা। নিহতদের অধিকাংশ ইয়াবা কারবারি ও মানব পাচারকারী।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, মানবিক আশ্রয়কে রোহিঙ্গারা অপব্যবহার করছে। তাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি জটিল হবে। রোহিঙ্গাদের প্রথম আশ্রয় দেয়া স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত দুই বছরে আগে আসা অসহায় মানুষ নেই রোহিঙ্গারা। আচার-আচরণ পাল্টে তারা ক্রমে ক্রমে উগ্র হয়ে উঠেছে। কথায় কথায় স্থানীয়দের সাথে ঝগড়া-বিবাদে জড়াচ্ছে, খুন করতেও দ্বিধা করছে না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও বলছেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান ও প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের পাশাপাশি এই অঞ্চলে নিরাপত্তা হুমকি বাড়বে। রোহিঙ্গা সংকটের সুযোগ নিতে পারে জঙ্গি ও উগ্রবাদী সংগঠনগুলোও।

এদিকে, বিএনপি অভিযোগ করেছে, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাবার ব্যাপারে সরকার কূটনৈতিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, সরকার একদিকে আন্তর্জাতিক মহলকে সাথে নিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, এ সংকটের বিষয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ। কমিশন মিয়ানমারে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখবে যে, যেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরত যাবার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কী না।  

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি হয়েছে ২০১৮ সালে। গত বছর নভেম্বরে এবং এবছর গত ২২ আগস্ট দু’বার  প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সে কাজটি  শুরু করা যায়নি।

গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তুতি নেয় দুই দেশ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণে ভেস্তে যায় সেই প্রচেষ্টা। নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, বসতভিটাসহ সম্পদ ফেরত ও নিপীড়নের বিচার নিশ্চিত না হলে তারা মিয়ানমারে ফিরবে না বলে জানিয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে না যাওয়ার ব্যাপারে কিছু বিদেশি এনজিও উস্কানি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ইতিপূর্বে এসব রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা হাতে নেয় সরকার। কিন্তু সে বিষয়েও কোন সুরাহা হয়নি।#

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।