রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কূটনীতিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিং
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i73207-রোহিঙ্গা_সংকটের_সর্বশেষ_পরিস্থিতি_নিয়ে_কূটনীতিকদের_পররাষ্ট্রমন্ত্রীর_ব্রিফিং
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশ এ বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি অবহিত করতে ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের ব্রিফ করছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
আগস্ট ২৯, ২০১৯ ১৫:৩২ Asia/Dhaka
  • রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কূটনীতিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিং(ফাইল ফটো)
    রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কূটনীতিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিং(ফাইল ফটো)

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশ এ বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি অবহিত করতে ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের ব্রিফ করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন আজ  (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় কূটনীতিকদের ব্রিফ করেন। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা ব্রিফিংয়ে অংশ নেন।

এসময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন ।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের অনিচ্ছা ও মিয়ানমার সম্পর্কে তাদের মাঝে আস্থার ঘাটতির কারণে প্রত্যাবাসন শুরুর সর্বশেষ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রেক্ষিতে আজকের ব্রিফিংয়ের  উদ্যোগ নেয়া হয়।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার অভিযোগে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু হয়। ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া, ধর্ষণ, হত্যাসহ নানা সহিংসতায় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গারা। এ সময় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা আসে বাংলাদেশে। তারাসহ আগে আসা রোহিঙ্গা মিলিয়ে নিবন্ধনের আওতায় এসেছে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৪১৭। তারা উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার নানা উদ্যোগের পর বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।

এছাড়া গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু রোহিঙ্গারা রাজি না হওয়ায় একজনকেও ফেরত পাঠানো যায়নি। সে সময় তারা অভিযোগ করেন, মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি।

এরপর সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট ব্যাপক প্রস্তুতির পরও রোহিঙ্গাদের অনিচ্ছার কারণে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন শুরুর কার্যক্রম আটকে যায়। ওদিকে, রোহিঙ্গা সংকট কাটাতে ঢাকার পক্ষে বেইজিংয়ে সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেছেন  চীনের  নবনিযুক্ত  রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট)  ঢাকায় নিযুক্ত  চীনের নতুন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাক্ষাৎ করে  এ আশ্বাস দেন।

সাক্ষাতকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঢাকার পক্ষে বেইজিংয়ে আরও শক্তিশালী সমর্থন আশা করেন। এ সময় চীনের দূত পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, এই সংকট কাটাতে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং গণমাধ্যমকর্মীদের জানান,  রোহিঙ্গা সংকট কাটাতে চীন কাজ করে যাচ্ছে এবং সামনের দিনে আরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/২৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।