অপকর্মের জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ৪১ এনজিও প্রত্যাহার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i73253-অপকর্মের_জন্য_রোহিঙ্গা_ক্যাম্প_থেকে_৪১_এনজিও_প্রত্যাহার_পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপকর্মে লিপ্ত থাকা ৪১ বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কার্যক্রম বাতিল করে প্রত্যাহার করা হয়েছে। যেসব বেসরকারি সংস্থার একই ধরনের কাজে লিপ্ত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
আগস্ট ৩১, ২০১৯ ১২:৩৭ Asia/Dhaka
  • ড. এ কে আব্দুল মোমেন
    ড. এ কে আব্দুল মোমেন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপকর্মে লিপ্ত থাকা ৪১ বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কার্যক্রম বাতিল করে প্রত্যাহার করা হয়েছে। যেসব বেসরকারি সংস্থার একই ধরনের কাজে লিপ্ত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আজ (শনিবার) সকালে নগরের দক্ষিণ সুরমায় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুরু থেকে ১৩৯টি বেসরকারি সংস্থা কার্যক্রম শুরু করেছিল। ব্যবস্থা নেয়ার পর বিভিন্ন দেশি-বিদেশি এনজিও সংস্থা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতে নানাভাবে তদবির করছে।

এর আগে গতকাল (শুক্রবার) সিলেটে জাতীয় শোক দিবসের এক সভা শেষে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিভিন্ন এনজিও ইন্ধন দিচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর আছে। বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। যারা রোহিঙ্গাদের এসব কাজে সহযোগিতা করছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে, শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

স্থানীয়দের কারও কারও অভিযোগ, প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গাদের নিরুৎসাহিত করার পেছনে সবচেয়ে ভূমিকা রাখছে আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলো। এদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কক্সবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, কিছু স্থানীয় ও বিদেশি এনজিও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে ভুল বুঝাচ্ছে। বলা হচ্ছে রোহিঙ্গারা  মিয়ানমারে ফিরে গেলে তাদের আবার নির্যাতনের শিকার হতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েও তাদের আতঙ্কিত করা হচ্ছে।

এর মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে কক্সবাজারে ‘মুক্তি’ নামে একটি এনজিওর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ধারালো অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। এ প্রেক্ষিতে মুক্তি’র ছয়টি প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো।

তবে, 'মুক্তি'র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দে বলেছেন, ‘মুক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ঠিক না। আমরা রোহিঙ্গাদের কোন ধারালো অস্ত্র সরবরাহ করছি না। বরং রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগণের কৃষি কাজে সহায়তার জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে নিড়ানি তৈরি করা হচ্ছিল। বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেগুলি  জব্দ করে।“

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির, কক্সবাজার।

উল্লেখ্য, রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাদের নির্যাতন হতে জীবন বাঁচাতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেন বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। নতুন-পুরোনো মিলিয়ে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয়ের পাশাপাশি সার্বিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। 

দেশি-বিদেশি এনজিওর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার তাদের খাদ্য, অস্থায়ী বাসস্থান, চিকিৎসা, বস্ত্র, লেখাপড়া, বিনোদনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদে রাখাইনে ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। কিন্তু রোহিঙ্গাদের অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার হচ্ছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।