ঢাকায় আশুরার শোক মিছিলে থাকবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
-
সাংবাদিকদের ব্রিফিং করছেন ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া
শোকাবহ আশুরা উপলক্ষে বাংলাদেশের রাজধানীতে অনুষ্ঠেয় তাজিয়া মিছিল ও অন্যান্য অনুষ্ঠানকে ঘিরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আজ (শনিবার) বেলা ১১টায় রাজধানীর হোসাইনী দালান ইমামবাড়া কেন্দ্রীক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে একথা জানান ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রতিবারের ন্যায় এবারও শান্তিপূর্ণভাবে ১০ মহরমে বড় তাজিয়া শোক মিছিল হবে। সুদৃঢ়, সমন্বিত ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে পালিত হবে তাজিয়া শোক। সেলক্ষ্যে আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি ইমামবাড়া সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে প্রত্যেক দর্শনার্থীর দেহ তল্লাশী করে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করানো হবে। ডিএমপি’র ডগ স্কোয়াড ও স্পেশাল ব্রাঞ্জ অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে প্রতিটি অনুষ্ঠানস্থল সুইপিং করবে। যেসব রুট দিয়ে শোক মিছিল যাবে সেসব রুটে থাকবে আমাদের রুফটপ ডিউটি, রোড ব্যারিকেড ব্যবস্থা, গাড়ি ও ফুট পেট্রোলিং। মিছিলের আগে, মাঝে, পাশে ও পিছনে থাকবে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শোক মিছিলের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। অনেক আগে তাজিয়া শোক মিছিলকে কেন্দ্র করে বিশৃংখলা থাকলেও বর্তমানে সুশৃংখলা এসেছে।
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, মররহমের মিছিলে ধাতব বস্তু, ছুরি, তরবারি ও বর্শা নিয়ে আসা যাবে না। এছাড়া মিছিলে কোনো বস্তু বহন করা যাবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে শোক মিছিলে ব্যবহৃত নিশান এর উচ্চতা ১২ ফুট এর বেশী হবে না। মিছিলে কোন পাইক অংশগ্রহণ করতে পারবে না। মিছিলে উচ্চশব্দে যেকোনো ধরনের বাদ্যযন্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ শোকের মিছিল সুতরাং যেকোনো ধরনের বাদ্যযন্ত্র উৎসব-আনন্দে নিষিদ্ধ।
আসাদুজ্জামান মিয়া জানান, তাজিয়া শোক মিছিলকে ঘিরে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করবেন আয়োজকরা। স্বেচ্ছাসেবকরা নির্ধারিত পোশাক, আর্মড ব্যান্ডসহ ছবি সম্বলিত আইডি কার্ড প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখবে।

কমিশনার আরও বলেন, শোক মিছিলে কেউ অংশগ্রহণ করতে চাইলে তাকে মিছিল শুরুর স্থানে যেতে হবে। রাস্তার মাঝে বিভিন্ন অলি গলি থেকে তাজিয়া শোক মিছিলে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না। মিছিল শুরুর স্থানে প্রবেশের আগে সকলকে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর ও হাত দিয়ে দেহ তল্লাশী করে শোক মিছিলে ঢুকতে দেয়া হবে। তল্লাশী ব্যতিত কোন অবস্থায় কাউকে মিছিলে ঢুকতে দেয়া হবে না। শোক মিছিলে পাঞ্জা মেলানোর সময় কোনপ্রকার শক্তি প্রদর্শন বা ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যাবে না।
২০১৫ সালে হোসেনি দালানের বোমা হামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, তদন্তের পর এই মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আদালত যখন বলবেন, তখন মামলার সাক্ষীদের হাজির করা হবে।
আশুরা হচ্ছে মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের দিন। হিজরির সাল অনুসারে ১০ মহররমকে বলা হয় আশুরা। ঘটনাবহুল এই দিনে বর্তমান ইরাকের অন্তর্গত কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর দৌহিত্র ইমাম হোসেইন (আ.) ও তাঁর ৭২ জন সঙ্গী। তাঁদের শাহাদাতের স্মরণে প্রতিবছর বাংলাদেশে দিনটি পালন করা হয় নানা আনুষ্ঠানিকতায়।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৭