আ. লীগের মুখে উন্নয়ন, বুকে দুর্নীতি- রিজভী: বিএনপি রাজনীতির কাক- তথ্যমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i74068-আ._লীগের_মুখে_উন্নয়ন_বুকে_দুর্নীতি_রিজভী_বিএনপি_রাজনীতির_কাক_তথ্যমন্ত্রী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নিজেদের মধ্যম সারির নেতাদের দুর্নীতি বেরিয়ে আসায় এখন ভীত হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে এখন দলটির নেতাকর্মীরা বিরোধী দলের তকমা ব্যবহার করে বক্তব্য দিচ্ছেন। ফলে লোক দেখানো এই অভিযানের স্থানু নিশ্চল হয়ে পড়েছে।’
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯ ১৩:১১ Asia/Dhaka
  • সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী (ফাইল ফটো)
    সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী (ফাইল ফটো)

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নিজেদের মধ্যম সারির নেতাদের দুর্নীতি বেরিয়ে আসায় এখন ভীত হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে এখন দলটির নেতাকর্মীরা বিরোধী দলের তকমা ব্যবহার করে বক্তব্য দিচ্ছেন। ফলে লোক দেখানো এই অভিযানের স্থানু নিশ্চল হয়ে পড়েছে।’

আজ (রোববার) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, ‘সরকার দেশকে হরিলুটের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছে। আওয়ামী লীগ যা-ই বলুক, তাদের মুখে উন্নয়ন আর বুকে দুর্নীতি। উন্নয়নের নামে দুর্নীতি এখন আওয়ামী লীগকে জনমনে ঘৃণার পাত্রে পরিণত করেছে। তাই কথিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে এখন যখন জনগণের সামনে তাদের দুর্নীতির কালিমায় লিপ্ত চেহারা প্রকাশ হয়ে পড়েছে। এখন সেই চেহারা আড়াল করার জন্য তারা নানা রকম কুতর্কের জন্ম দিচ্ছে।’

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, ‘সরকার দেশকে হরিলুটের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছে। টেলিভিশনের খবরে বলা হচ্ছে, ‘ক্যাসিনোর চেয়েও বড় দুর্নীতি হয় পরিবহন সেক্টরে। কেবল রাজধানীতেই প্রতিদিন ১০/১২ কোটি টাকার চাঁদা ওঠে। অথচ সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাসীন নেতা ধরাছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামী লীগ নিজেদের রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের এখন নানা রকম মিথ্যাচার এবং ছলচাতুরীর আশ্রয় নিতে হচ্ছে। অভিযানের নামে কয়েকটা চুনোপুঁটি ধরার পর জনগণের সামনে দুর্নীতিবাজ সরকারের আসল চেহারা উন্মোচিত হয়ে পড়ায় মন্ত্রীরা এখন স্বাভাবিক বোধবুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছেন।’

রিজভী অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষ বিশ্বাস করে, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো কিছুই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অজানা ছিল না। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেদের সরকারের দলীয় বাহিনী হিসেবে পরিণত করায় এত দিন তারা ক্যাসিনোতে অভিযান চালাতে সাহস করেনি।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে যখন জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, তখন জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এটাকে নিয়ে অহেতুক রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতামন্ত্রীরা। তবে জনগণের সামনে ভেঙে পড়েছে আওয়ামী লীগের মিথ্যার মিথ। সরকার যদি মনে করে, দুর্নীতির জন্য অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগে যাওয়া লোকজন দায়ী, তাহলে সরকারের উচিত এক সপ্তাহের মধ্যে সেসব দুর্নীতিবাজকে তাদের দল থেকে জরুরি ভিত্তিতে খুঁজে বের করা। সত্যি সত্যি দুর্নীতিবাজ ধরতে চাইলে, চুনোপুঁটি নয়, দুর্নীতির সম্রাটদের ধরুন, তাদের রক্ষক রাজা-রানি, বাদশাহদের ধরুন।’

ড. হাছান মাহমুদ

এদিকে, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের কাছে রাজনীতি ব্রত, বিএনপির কাছে ক্ষমতা, লোভ-লালসা। প্রকৃত রাজনীতিবিদরা আওয়ামী লীগ করেন আর উচ্ছিষ্টরা বিএনপির সঙ্গে জড়িত। বিএনপি রাজনীতির কাক, যাদের উচ্ছিষ্টই প্রিয়।

রোববার আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম এ মান্নানের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না। দলের সব নেতারা সবসময় ক্ষমতা, লোভ-লালসার বাইরে। আওয়ামী লীগের সৃষ্টি হয়েছে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। আর রাজনীতির কিছু উচ্ছিষ্টদের নিয়ে বিএনপির সৃষ্টি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি মাদক, দুর্নীতি, ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছেন। আর বিএনপি দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতে নিজেরাই দলের ৭ ধারা সংশোধন করেছে। তাদের সে ধারায় লেখা ছিল, দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত কেউ দলের নেতা হতে পারবে না। তারা এ ধারা সংশোধন করে দুর্নীতিকে লালন করছে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।