দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি: সরকারের পদত্যাগ দাবি বিএনপির
-
শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গত ১০ বছরে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের সব টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার হলে, দেশ আরও অনেক উন্নত হতো। কোথায় দুর্নীতি হচ্ছে তা তিনি এখন খুঁজে দেখবেন।
নিউইয়র্কস্থ হোটেল ম্যারিয়ট মারকুইজে প্রধানমন্ত্রীর ৭৩তম জন্মদিনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে পরিমাণ উন্নয়ন প্রকল্প আমরা নিচ্ছি, তার প্রতিটি টাকা যদি সঠিকভাবে ব্যয় হতো তবে বাংলাদেশ আরও অনেক দূর উন্নত হতে পারত। এখন আমাকে খুঁজে বের করতে হবে কারা কোন জায়গায় এই ঘাপলাগুলো করছে। তার নিজের দলের কেউ হলেও ছাড় দেয়া হবে না।
অনুষ্ঠানটি দলীয়ভাবে আয়োজন করা হলেও এতে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। নিজেদের দ্বন্দ্বের কারণে সভা মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কমিটির কাউকেই বসতে দেয়া হয়নি ।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল বিকেলে ঢাকায় আয়োজিত আওয়ামী লীগের এক অনুষ্ঠানে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগে দুর্নীতিবাজদের কোনো ঠাঁই নেই। গুটিকয়েক লোকের অপকর্মের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করা যাবে না।
তবে, বিএনপি নেতারা বলেছেন, দুর্নীতির মূল হোতাদের না ধরা পর্যন্ত অভিযান সফল হবে না। গত দশ বছরে যারা মন্ত্রী এবং এমপি হয়েছেন, তাদের সবার সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে তুলে ধরারও দাবি জানিয়েছের তারা।
সাবেক মন্ত্রী এবং বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন গতকাল প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, দেশ এখন দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। কেবল কয়েকটি চুনোপুঁটিকে ধরে দুর্নীতি-বিরোধী অভিযান সফল হবে না। সরকার দুর্নীতমুক্ত করার ব্যাপারে আন্তরিক হলে উপর থেকে শুদ্ধি শুরু করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, দুর্নীতির দায় নিয়ে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।
এদিকে, সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আজ বলেছেন, শুধু ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান নয়, যারা আইন অমান্য করে অপরাধ দুর্নীতি করছে তাদের বিরুদ্ধে সারাদেশেই এ অভিযান পরিচালিত হবে।
রোববার সকালে গাজীপুরের আনসার একাডেমিতে বিসিএস আনসারদের প্রশিক্ষণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজকে দেশকে যে অবস্থানে নিয়ে গেছেন, তা ধরে রাখতে আমাদের অবশ্যই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেজন্যই যে অন্যায় করুক, জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কর্মচারি হোক- তাকেই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।“#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।