বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে চুরি নয় ‘সিস্টেম লস’: তদন্ত প্রতিবেদন
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i74248-বড়পুকুরিয়া_কয়লাখনিতে_চুরি_নয়_সিস্টেম_লস’_তদন্ত_প্রতিবেদন
বাংলাদেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুরে বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা চুরির ঘটনায়  সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা চুরির কোনো প্রমাণ পায়নি। খনি থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা গায়েবকে সিস্টেম লস হিসেবেই দেখানো হয়েছে সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
অক্টোবর ০৬, ২০১৯ ০৯:২২ Asia/Dhaka
  • বড়পুকুরিয়া তাপ-বিদ্যুৎ কেন্দ্র
    বড়পুকুরিয়া তাপ-বিদ্যুৎ কেন্দ্র

বাংলাদেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুরে বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা চুরির ঘটনায়  সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা চুরির কোনো প্রমাণ পায়নি। খনি থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা গায়েবকে সিস্টেম লস হিসেবেই দেখানো হয়েছে সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে।

এর আগে গত বছর জুলাই মাসে জ্বালানির অভাবে ৫২ দিন বন্ধ রাখতে হয় দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন। সে সময় বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে কয়লা সরবরাহে ঘাটতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে। সে প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে গঠিত হয় একাধিক তদন্ত কমিটি।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গঠিত একটি তদন্ত দল অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পায়, ২০০৫ সালে কয়লা উৎপাদন শুরুর পর থেকে ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত  তের বছরে ১৪৪,৬৪৪ টন কয়লা গায়েব করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ২৩০ কোটি টাকা।

যেহেতু কয়লা উত্তোলনের দায়িত্বে নিয়োজিত চীনা কোম্পানিকে ফি দিতে হয়, সেজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা পেট্রোবাংলাকে কয়লা উৎপাদনের হিসাবটি কড়ায়-গণ্ডায় রাখতে হয়। সে কারণেই তদন্তে হিসাবের গরমিল সহজে ফাঁস হয়ে যায়।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এ তদন্তের পরে পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে খনির শীর্ষ পর্যায়ের চারজন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। দুজনকে ঢাকায় পেট্রোবাংলা সদর দপ্তরে বদলি করা হয়।

এ প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের জুলাই মাসেই খনি কর্তৃপক্ষেরই একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ১৯ জন কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে স্থানীয় পার্বতীপুর থানায় একটি দুর্নীতির মামলা দায়ের করে।

মামলার তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় দুর্নীতি দমন কমিশনকে। ইতোমধ্যে দুদকের তদন্তে এই বিপুল পরিমাণ কয়লা লোপাটকে ‘চুরি’ হিসেবেই দেখিয়ে   সংশ্লিষ্ট খনি কর্মকর্তাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।  

তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে যে, তিন তিনটি সরকারি তদন্তে কয়লা চুরির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। প্রায় দেড় লাখ টন কয়লা গায়েব হওয়াকে সিস্টেম লস হিসেবেই দেখছেন তারা। এ অবস্থায় সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহল। দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান রেডিও তেহরানকে বলেন, এরকম একটি বহুল আলোচিত কেলেঙ্কারির ব্যাপারে সরকারি কমিটির রিপোর্ট নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এখানে অভিযুক্তদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব বা স্বার্থ যোগসাজস থাকতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ঘাটতি পূরণ হয়ে গেছে, চুরি হয়নি; এমন উপসংহারে আসার সুযোগ নেই। দুদকের হিসাবের ঘাটতি ১ লাখ ৪৪ হাজার টন নয়, ৫ লাখ টন হিসাবের মধ্যেই রাখা হয়নি, বাইরে রাখা হয়েছে। সেই ৫ লাখ টনতো হিসাবের মধ্যে আনতে হবে।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, সরকারি তদন্ত যাই বলুক না কেন, দুদক যেহেতু তাদের অনুসন্ধানে বিশাল চুরির কথা জানতে পেরেছে, সেহেতু এখন দুদকেরই দায়িত্ব হবে তা প্রমাণ করা এবং দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা। জনগণ সেটাই চায়।

তবে, সরকার গঠিত বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী কামরুজ্জামান বলেছেন, টেকনিক্যাল অ্যাসপেক্টে আমি বলব এখানে কোনো চুরি নয়  এটা টেকনিক্যাল লস।

আর পেট্রোবাংলার তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, বিশেষ নিরাপত্তা স্থাপনা-কেপিআই হওয়ায় কয়লাখনি থেকে চুরির সুযোগ নেই।

তবে, সিস্টেম লস কমাতে উৎপাদন থেকে সরবরাহ পর্যন্ত সব পর্যায়ে তথ্য নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ, স্টকইয়ার্ডের ওপর শেড নির্মাণসহ বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি।#

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।