'বাংলাদেশে গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক পরিবারের সংখ্যা কমে যাওয়া আশঙ্কাজনক'
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i74834-'বাংলাদেশে_গ্রামীণ_কৃষিভিত্তিক_পরিবারের_সংখ্যা_কমে_যাওয়া_আশঙ্কাজনক'
বাংলাদেশে গত এক দশকে কৃষিভিত্তিক পরিবারের সংখ্যা প্রায় তিন শতাংশ কমে গেছে। দেশে দ্রুত নগরায়ণ বৃদ্ধি পাওয়া, অকৃষিখাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কৃষি উৎপাদন কম লাভজনক হবার কারণে ধীরে ধীরে কৃষিভিত্তিক পরিবারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
অক্টোবর ২৮, ২০১৯ ১৫:৫৮ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে গত এক দশকে কৃষিভিত্তিক পরিবারের সংখ্যা প্রায় তিন শতাংশ কমে গেছে। দেশে দ্রুত নগরায়ণ বৃদ্ধি পাওয়া, অকৃষিখাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কৃষি উৎপাদন কম লাভজনক হবার কারণে ধীরে ধীরে কৃষিভিত্তিক পরিবারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

গতকাল প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কৃষি শুমারি ২০১৯-এর প্রাথমিক ফলাফলে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। সর্বশেষ কৃষি শুমারি অনুযায়ী, দেশে মোট পরিবারের (খানা) সংখ্যা ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৩ হাজার ১৮০টি। এরমধ্যে কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১ কোটি ৬৫ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৪ পরিবার। এক্ষেত্রে শহরে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৫টি পরিবার এবং গ্রামে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪৫ হাজার ১১৯টি পরিবার।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৯৮৩ সালে দেশে পল্লী অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক পরিবারের শতকরা পরিমাণ ছিল ৭২ দশমিক ১০ শতাংশ যা ২০০৮ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০১৯ সালের সর্বশেষ জরিপে বলা হচ্ছে, দেশে কৃষি খানার শতকরা হার ৫৩ দশমিক ৮২ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে কমেছে কৃষিনির্ভর পরিবারের সংখ্যা।  

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতির ছাত্র এবং 'পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন'র (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান রেডিও তেহরানকে বলেন, গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক পরিবারের সংখ্যা কমে যাওয়া দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির জন্য আশংকার বিষয়। 

তিনি মনে করেন, কৃষি উপকরণে ভর্তূকি প্রদান ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রনোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামীণ কাঠামোর উপযোগী কৃষিভিত্তিক শিল্প ও প্রযুক্তি সহজলভ্য করতে হবে। এছাড়া প্রামাঞ্চলে কৃষিপন্য বিক্রয়ের পাইকারী বাজার ও সংরক্ষনাগার স্থাপন করতে হবে, কম খরচে পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং প্রামাঞ্চলে ভর্তুকিমূল্যে বিদ্যুতের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।   

উল্লেখ্য, গত ৯ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে প্রণীত সর্বশেষ কৃষি শুমারির প্রাথমিক ফলাফল গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

দেশে ছাগলের সংখ্যা কত?

কৃষি শুমারিতে প্রাণিসম্পদ বিষয়ক তথ্যে দেখা যায়, দেশে বর্তমানে ছাগলের সংখ্যা ১ কোটি ৯২ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩টি, গরুর সংখ্যা ২ কোটি ৮৪ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৫টি; মহিষ রয়েছে ৭ লাখ ১৮ হাজার ৪১১টি এবং ভেড়া রয়েছে ৮ লাখ ৯২ হাজার ৬২৮টি।

তাছাড়া, হাঁসের সংখ্যা ৬ কোটি ৭৫ লাখ ২৯ হাজার ২১০টি এবং মুরগি রয়েছে ১৮ কোটি ৯২ লাখ ৬২ হাজার ৯১০টি। দেশে বর্তমানে লাভজনকভাবে টার্কিস মুরগির চাষ হচ্ছে। বর্তমানে সারা দেশে ১৪ লাখ ৪৫ হাজার ৪২০টি টার্কিম মুরগীর হিসেবে পাওয়া গেছে।  

মাছ চাষের ওপর নির্ভরশীল পরিবার ৯ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৫টি, কৃষি মজুরির ওপর নির্ভরশীল এমন পরিবারের সংখ্যা ৯০ লাখ ৯৫ হাজার ৯৭৭টি।

নিজস্ব জমি নেই এমন পরিবার রয়েছে ৪০ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯টি এবং অন্যের কাছ থেকে জমি নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে এমন পরিবার ৬৭ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮৭টি।

অনুষ্ঠানে কৃষি শুমারির তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রইছউল আলম মণ্ডল বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে বিশুদ্ধ ডাটা দরকার। বেইজ লাইন না থাকলে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সঠিক হয় না। শুমারিতে ডিম, দুধ, ইলিশ এবং মিঠা পানির মাছের তথ্য থাকা উচিত ছিল।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, 'এত বড় মহাযজ্ঞ বোধহয় নিখুঁত হওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে আরো নিবিড়ভাবে সবাই কাজ করবে বলে আমি কথা দিচ্ছি। দেশের সব পরিকল্পনায় ভিত্তি হবে সঠিক পরিসংখ্যান। আর সেকারণে পরিসংখ্যান ব্যুরোকে একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।'#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৮