এক দশকের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতি: সিপিডি
বাংলাদেশের অর্থনীতি গত এক দশকের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশী চাপের মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিনমাসে দেশের উৎপাদন খাত, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান,রাজস্ব আয় এবং ব্যাংক ও পুঁজিবাজার বিষয়ে বিশ্লেষণ করে সিপিডি বলেছে, “সরকারের প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রিক উপাখ্যান” প্রকৃত উন্নয়নের শত্রুতে পরিণত হয়েছে।
নতুন অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে কেমন কেটেছে অর্থনীতি- এমন প্রশ্নের জবাব দিতে সিপিডি গতকাল এক মিডিয়া ব্রিফিং-এ এসব মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
সার্বিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এক দশকের মধ্যে এতো চাপে কখনোই পড়েনি অর্থনীতি। তিনি এজন্য দায়ী করেন, সংস্কারের অভাব আর বিভিন্ন সময়ের উন্নয়ন বিরোধী সিদ্ধান্তকে। তার মতে, রাজস্ব, ব্যাংক, পুঁজিবাজার এবং বহির্খাত আটকে পড়েছে সংস্কারবিরোধী দুষ্টচক্রে যা থেকে বের হতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অসম্ভব।
এসময় সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে খেলাফি ঋণ আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জুন ২০১৯ নাগাদ এ খেলাফি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে- একলক্ষ বারো হাজার চারশ ত্রিশ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসেবে গত দশ বছরে খেলাফি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে চার গুণ। এ অবস্থায় গতকালই হাইকোর্ট এক নির্দেশে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরি করতে একটি বিষেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মঞ্জিল মোরশেদ।
১০ বছরে কোটিপতি ৪ গুণ
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দশ বছরে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৪ গুণ। সবচেয়ে কোটিপতি বেড়েছে ২০১০ সালে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৩৬৯ জন (আমানতকারী ১৯,১৬৩ ও ঋণগ্রহীতা ২৫,২০৬)। আর ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়ায় এক লাখ ৬৬ হাজার ৭২৮ জন। বর্তমানে দেশে ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি পৌনে দুই লাখের বেশি। সে হিসেবে, বছরে গড়ে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ১২ হাজার ২৩৫ জন।
তবে এ প্রতিবেদনে শুধু ব্যাংকিং খাতের কোটিপতির সংখ্যা স্থান পেয়েছে। কিন্তু ব্যাংকিং খাতের বাইরে হিসাব করলে দেশে মোট কোটিপতির সংখ্যা আরো কয়েক গুণ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে অনেকের ঘরে কোটি কোটি টাকা গচ্ছিত পাওয়া গেছে যার হিসেব ব্যাংকের খাতায় নেই।
এ অবস্থার মাঝে, দারিদ্র বিমোচনে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রশংসা করেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। তবে অবকাঠামো, আর্থিক খাতসহ বেশ কিছু খাতের সংস্কারের প্রয়োজন আছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
রোববার (৩ নভেম্বর) ঢাকায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সাথে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বৈঠকের পর একথা বলেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক প্যাট্রিজিও পাগানো।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।