যেখানে-সেখানে শিল্প-কারখানা নয়, কৃষি জমি বাঁচাতে হবে: শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i75029-যেখানে_সেখানে_শিল্প_কারখানা_নয়_কৃষি_জমি_বাঁচাতে_হবে_শেখ_হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যেখানে-সেখানে শিল্প-কারখানা করতে দেওয়া হবে না। আমরা ১০০ কোটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। কারও শিল্প-কারখানা করার দরকার হলে সেখানে আমরা প্লট দিয়ে দেবো।’
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
নভেম্বর ০৬, ২০১৯ ১০:৪২ Asia/Dhaka
  • শেখ হাসিনা
    শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যেখানে-সেখানে শিল্প-কারখানা করতে দেওয়া হবে না। আমরা ১০০ কোটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। কারও শিল্প-কারখানা করার দরকার হলে সেখানে আমরা প্লট দিয়ে দেবো।’

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ কৃষক লীগের দশম জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কৃষি জমিকে বাঁচাতে হবে। ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে হবে। তাই কৃষি জমিকে নষ্ট করা যাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প নেয়ার সময়ও কৃষকদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়। দেশের একখণ্ড জমিও অনাবাদি থাকবে না। কৃষকের টাকা বিতরণে যে অনিয়ম না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। গত ১১ বছরে কৃষিখাতে ৬৫,৫৭১ কোটি টাকা ভতুর্কি দেয়া হয়েছে। উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির সময় সারের জন্য কৃষককে জীবন দিতে হয়েছে। এখন আর কৃষককে জীবন দিতে হয় না। এখন সার কৃষকের হাতে পৌঁছে যায়।’

কৃষক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

তিনি বলেন, ‘বিএনপি এসে বিএডিসি বন্ধ করে দিয়েছিল। বিএনপির যুক্তি হলো বিএডিসি নাকি লাভজনক না। সবসময় সবকিছুতে লাভ-লোকসান দেখলে চলে না। দেশের মানুষ কীভাবে উপকৃত হবে সেটিই আমাদের দেখতে হবে।’

কৃষকের জন্য বঙ্গবন্ধুর গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭২ সালের ২৯ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। যেন কৃষক লীগের নেতারা কৃষকের কথা বলতে পারেন। কৃষি কাজে যারা ভালো ফলাফল দেবেন, তাদের গবেষণা, কৃষি উৎপাদন ও উৎসাহ দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু তহবিল গঠন করেছিল। এই তহবিল থেকে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় ৭৫ এর জাতির পিতাকে হত্যার পর এই পুরস্কার বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে আমরা ক্ষমতায় এসে আইন করে কৃষকদের জন্য পুরস্কার ও প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছি।’

ওবায়দুল কাদের

কৃষক লীগের জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গত চুয়াল্লিশ বছরে সবচেয়ে সফল কৃষকবান্ধব সরকারের নাম শেখ হাসিনা সরকার। গত চুয়াল্লিশ বছরের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীর নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত চুয়াল্লিশ বছরে সবচেয়ে সফল কূটনীতিকের নাম শেখ হাসিনা।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু কে বলে বঙ্গবন্ধু নেই। বঙ্গবন্ধু থাকবেন লাঙলের ফলায়, থাকবেন শ্রমিকের হাতুড়ি-গাইতিতে, থাকবেন লালনের একতারায়।’

এর আগে সকাল ১১টায় কৃষক লীগের দশম জাতীয় সম্মেলন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। কৃষক লীগের এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

স্বাধীনতার পর অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে চাষাবাদে কৃষককে সহযোগিতা দেওয়া ও কৃষির সমৃদ্ধির জন্য ১৯৭২ সালে ১৯ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ কৃষক লীগ নামে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন কৃষক নেতা আবদুর রব সেরনিয়াবাত। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত নয়বার সম্মেলন হয়েছে কৃষক লীগের। দশম সম্মেলনকে ঘিরে কৃষক লীগের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।