বাংলাদেশে আরেক দফা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব, সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে আরেক দফা গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ বিতরণকারী দুই সংস্থা ঢাকা পাওয়ায় ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)।
দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ডেসকো প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিতরণ ব্যয় এক টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করে। তাদের প্রস্তাবনা যাচাই করে এনার্জি রেগুলেটারি কমিশনের মূল্যায়ন কমিটি ৮১ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। একইভাবে, ডিপিডিসি এক টাকা ২৪ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করলে মূল্যায়ন কমিটি ৮৭ পয়সা বৃদ্ধি যৌক্তিক বলে জানিয়েছে।
ডেসকো এবং ডিপিডিসি-দুই কোম্পানিই লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। দুই কোম্পানিই বলছে পাইকারি বিদ্যুতের দাম না বাড়লে তাদের বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না। এ বিষয়ে মূল্যায়ন কমিটি বলেছে—কমিশন পাইকারি বিদ্যুতের দাম যতটা বৃদ্ধি করবে সে অনুযায়ী খুচরা দাম বাড়ানো যেতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. হাসিব চৌধুরী রেডিও তেহরানকে জানান, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আগে বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি নিয়ে সামগ্রিক একটা তদন্ত করা দরকার। জানা দরকার এসব প্রকল্পে বিদ্যুতের উৎপাদন সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় কত খরচ হচ্ছে, কত অপচয় হচ্ছে। আর তার দায় কতটাই বা জনগণের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের দেশে বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য প্রাইমারী ফুয়েল অর্থাৎ জ্বালানি তেল, কয়লা বা গ্যাসের সংকট রয়েছে। তাই প্রতিবেশী দেশ যেমন নেপাল, ভূটান এমন কী মিয়ানমার হয়ে চীন থেকেও বিদ্যুত আমদানীর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা দরকার।
ওদিকে, এনার্জি রেগুলেটারি কমিশন বলছে, এখন অনেক স্থানে প্রিপেইড মিটার লাগানো হচ্ছে। এর আগে গ্রাহক ডিজিটাল মিটার ব্যবহারের সময় বিতরণ কোম্পানি যে নিরাপত্তা জামানত নিয়েছিল তা ফেরত দেওয়া উচিত। গ্রাহকের নিরাপত্তা জামানতের অর্থ কোম্পানিগুলো নিজের আয়ে অন্তর্ভুক্ত করছে যা আইনসংগত নয়। এই অর্থ পৃথক অ্যাকাউন্টে রাখতে হবে। কোন কারণে গ্রাহক লাইন ছেড়ে দিলে তার নিরাপত্তা জামানত সুদসহ ফেরত দিতে হবে।
এ বিষয়ে বিতরণ কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, গ্রাহক আবেদন করলে তাদের এই অর্থ ফেরত দিচ্ছে তারা। কিন্তু অধিকাংশ গ্রাহক আবেদন না করাতে তা বিতরণ কোম্পানির কাছেই থেকে যাচ্ছে।
তাছাড়া, প্রিপেইড মিটারের ভাড়া নিয়েও কমিশনে ভোক্তারা অভিযোগ করেছে। বিতরণ কোম্পানি বলছে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তারা ৪০ টাকা করে প্রিপেইড মিটারের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একটি মিটারের আয়ুষ্কাল ১০ বছর ধরে এই ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন, মিটারের দামের চেয়ে এই ভাড়া দ্বিগুণ। আবার কোনো কারণে মিটার লক হলে খুলে দিতে ৬০০ টাকা চার্জ নেয়া হচ্ছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।